বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি চান ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৫, ১১:৫৭
বিনিয়োগের জন্য গ্যাস ও বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। চাহিদা অনুযায়ী জমি পাওয়া যায় না। এছাড়া রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণ দেখিয়ে  এখানে বিনিয়োগের সুযোগ নেই দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ জন্য বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি চান তারা। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেয়ার আগে এ ব্যাপারে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
 
বুধবার বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিদেশে বিনিয়োগ নিয়ে রাজধানীতে অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)। সভায় ব্যবসায়ীদের সংগঠনটির পক্ষ থেকে ‘পলিসি গাইড লাইনস অন ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট বাই বাংলাদেশি এন্ট্রাপ্রেনিউরস’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এতে বিদেশে বিনিয়োগের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়েছে।
 
আইবিএফবির সভাপতি হাফিজুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ।
 
অনুষ্ঠানে নিবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইসমাঈল হোসেন। এতে বলা হয়, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে সময় এসেছে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেয়ার। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বিদেশে বিনিয়োগ করলে শুধু অর্থ চলে যাবে, এটা ভাবা ঠিক নয়। কারণ এর মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ লভ্যাংশ হিসেবে ফেরতও আসবে।
 
তবে বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেয়ার আগে আরো গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেসব ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধা (কম্পারেটিভ অ্যাডভান্টেজ) রয়েছে, সে বিষয়গুলো বিবেচনা করে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে পারেন। বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেয়ার বিরোধিতা করছি না, তবে সেক্ষেত্রে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হবে।
 
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যবসায়ী এ কে আজাদ বলেন, বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ গ্যাস ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। আমরা তা পাচ্ছি না। সরকার বলছে, আগামী ১৫ বছর পর গ্যাসের সরবরাহ কমে যাবে। তখন এলএনজির মাধ্যমে চাহিদা মেটানো হবে। কিন্তু এলএনজির জন্য সে ধরনের উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না। তাহলে আমরা কীভাবে কারখানা চালাব? সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কোনো জ্বালানি নীতিমালাও নেই। কয়লা নীতিমালা নেই। কারখানায় জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে আমরা এক ধরনের অন্ধকারের মধ্যে আছি। এ পরিবেশে আমরা কীসের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করব? তার মধ্যে কিছুদিন পর পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে। অথচ বিশ্বের অনেক দেশই সহজ শর্তে জমি ও জ্বালানি দিতে প্রস্তুত। সুতরাং আমাদের বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হোক।