২০১৮ সালে ব্রেস্ট ক্যান্সারে ৬ লাখ ২৭ হাজার নারীর মৃত্যু

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৯, ২০:১০

যেসব ক্যান্সারে নারীরা আক্রান্ত হতে পারেন, ব্রেস্ট ক্যান্সার তারমধ্যে অন্যতম। শুধু যে নারীরাই ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তা নয়, পুরুষদেরও হতে পারে এ রোগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতিবছর প্রায় ২১ লক্ষ নারী আক্রান্ত হন ব্রেস্ট ক্যান্সারে। একই সাথে ক্যান্সারজনিত নারীদের মৃত্যুর কারণ হিসেবেও শীর্ষে এই মরণব্যাধী। শুধু ২০১৮ সালেই ব্রেস্ট ক্যান্সারের কারনে ৬ লাখ ২৭ হাজার নারী মৃত্যুবরণ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সে অঞ্চলের নারীদের প্রতি ৮ জনের ১ জন নারী জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পরেন। বাংলাদেশে ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কিত খুব বেশি পরিসংখ্যান নেই। তবে গবেষণা ও বেশকিছু চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা থেকে অনুমান করা যায় যে, সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের নারীদের ক্ষেত্রেও প্রধান ক্যান্সারগুলোর অন্যতম ব্রেস্ট ক্যান্সার।

আরো পড়ুন: স্তন নিয়ে সমালোচনা, উপযুক্ত জবাব দিলেন স্বস্তিকা!

পিংক লাইফ বাংলাদেশ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যাদের অন্যতম উদ্দেশ্য ব্রেস্ট ক্যান্সারের মতো একটি মরণব্যধী সম্পর্কে বিভিন্নভাবে জনসচেতনা বৃদ্ধি। সেই উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার দুপুর ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি মিলনায়তনে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছে পিংক লাইফ বাংলাদেশ।



যেখানে 'ব্রেস্ট ক্যান্সার: কতটা সচেতন আমরা?' শিরোনামে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ।  এই গোলটেবিল বৈঠকটিতে অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. পারভীন সাহেদা, অধ্যাপক ডা. জাফর মাসুদ, অধ্যাপক ডা. সাইফ উদ্দিন আহমেদ, নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সাখাওয়াত মুন, সাংবাদিক মুন্নি সাহা, প্রভাষ আমিন, পল্লব মোহায়মিন, আফরোজা নীলা, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, সঙ্গীত শিল্পী দেবলীনা সুর, মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম, ডা. হাসান শাহরিয়ার কল্লোল, ডা. সামিয়া মুবিন, ব্রেস্ট ক্যান্সার সারভাইভার সালমা সুলতানা মৌসুমী এবং বাফুফের ওমেন উইং চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শোভন আরেফ।

অনুষ্ঠানে বক্তাগণ ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।পাশাপাশি মরণব্যাধি এই ক্যান্সার বিষয়ে সর্বস্তরে সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই বলেও জানান তারা। বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে আসে, বাংলাদেশে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ভয়াবহতার একটি অন্যতম কারন হলো এদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, অজ্ঞতা, লজ্জা, দ্বিধা, সংকোচ। সমাজ থেকে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হবার ভয়ে নারীরা তাদের ব্রেস্ট ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধীর কথা কারো কাছে প্রকাশ করেন না, এমন কি চিকিৎসকের কাছে আসতেও দ্বিধাবোধ করেন।

আরো পড়ুন: শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা

বৈঠকে পিংক লাইফ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সর্বস্তরে ব্রেস্ট ক্যান্সার বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে বছরব্যাপি পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে থাকছে ব্রেস্ট ক্যান্সার বিষয়ক ডিজিটাল কন্টেন্ট নির্মান, টেলিভিশন অনুষ্ঠান, মাঠপর্যায়ে মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন, ব্রেস্ট ক্যান্সার বিষয়ক সেমিনার আয়োজন, পেশেন্ট কাউন্সিলিং-সহ নানান কর্মসূচী।২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ব্রেস্ট ক্যান্সারে মৃত্যুর হার শূন্যতে নামিয়ে আনতে কাজ করবে পিংক লাইফ বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে আপনার সহযোগিতার জন্য পিংক লাইফ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

ইত্তেফাক/বিএএফ