জাবিতে ডীনের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র দেখানোর অভিযোগ

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৫, ২১:১৪


রবিবার থেকে শুরু হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথমবর্ষ স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষা। এইদিন পাঁচটি শিফটে এ ইউনিটভুক্ত গাণিতিক ও পদার্থবিদ্যা অনুষদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে রবিবার পরীক্ষা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ডীন অধ্যাপক সৈয়দ কামরুল আহসানের বিরুদ্ধে তার নিজ কক্ষে তিন শিক্ষার্থীকে প্রশ্নপত্র দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার ভর্তি পরীক্ষার প্রথম দিনে গাণিতিক ও পদার্থবিদ্যা অনুষদের দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সৈয়দ কামরুল আহসানের রুমে বসে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পড়তে দেখা যায়। ভর্তি পরীক্ষার কিছু বিষয় নিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক তার সঙ্গে কথা বলতে তার রুমে প্রবেশ করলে প্রশ্ন দেখানো বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রশ্নপত্র দেখানোর বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলে অধ্যাপক কামরুল প্রথমে জানান, 'এগুলো প্রথম শিফটের প্রশ্ন। ওরা একটু দেখছে'।

পরবর্তীতে তার কাছে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, প্রশ্নগুলো বিগত বছরের ছিল। বিগত বছরের প্রশ্ন হলেও তিনি এভাবে শিক্ষার্থীদের নিজ রুমে বসে প্রশ্ন দেখাতে পারেন না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক আবুল হোসেন।

তিনি বলেন, 'তিনি এভাবে কাউকে তার রুমে বসে প্রশ্ন দেখাতে পারেন না, সেটা এবছরের প্রশ্ন হোক কিংবা আগের বছরের প্রশ্ন। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে ইতিমধ্যেই অবহিত হয়েছি। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

অভিযুক্ত শিক্ষক কলা ও মানবিকী অনুষদের ডীন ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কামরুল বলেন, 'আসলে ওই প্রশ্নটা আগের বছরের (২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের) ছিলো। আমার কয়েকজন বন্ধু তাদের ভর্তি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে আমার কাছে এলে আমি তাদের নিয়ে রুমে বসি। এ সময় তারা আমার কাছে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে আমি তাদের আগের বছরের এসব প্রশ্ন দেখাই। এখানে আমার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিলো না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আলী বলেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।

ভিসি অধ্যাপক ফারাজানা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, 'কিছুক্ষন আগে আমি বিস্তারিত জেনেছি। সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।'

উল্লেখ্য এ বছরে মোট দুই লাখ ২৬ হাজার পাঁচশ ৭২ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ২০০০ আসনের বিপরীতে অংশ নিচ্ছে।