কুষ্টিয়া মিরপুরের নন্দিতা সিনেমা হলটি এখন কেবল স্মৃতি

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৫, ০০:৩৬

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র “নন্দিতা” সিনেমা হলটি এখন কেবল স্মৃতি। এখন ভেঙ্গে ফেলা হলটির স্থানে গড়ে উঠছে আলিশান বাড়ি। বর্তমান প্রজন্ম বিশেষ করে ৭/৮ বছর আগে এ উপজেলার যে শিশুটি ভুমিষ্ট হয়েছে সে শিশুটি বড় হবার পর এবং দুর-দুরান্তের মানুষরা এই স্থানটিকে চিনবেন শুধুই হয়তো আবাসিক এলাকা হিসাবে। 

 

উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে ১৯৮২ সালে ঝিনাইদহ শিল্প ব্যাংক থেকে ১৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঋণ সুবিধা নিয়ে ৪৩ শতক জমির উপর কুষ্টিয়া থানা পাড়ার কর্ণেল সাইদুর রহমান “নন্দিতা সিনেমা” হল প্রতিষ্ঠা করেন। সিনেমা হলটি চালুর পর অত্র অঞ্চলের বিনোদনপ্রিয় দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
 
 
সিনেমা হলটি চালুর পর ব্যবসায়িক সাফল্য যখন তুঙ্গে  তখন হলটির মূল মালিক কর্ণেল সাইদুর রহমান আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। ছন্দপতন ঘটে হলটির ব্যবসায়িক সাফল্যে। বাড়তে থাকে ঋণের সুদের পরিমাণ। এরপর ঈশ্বরদীর মধু খন্দকার বিনোদন কেন্দ্রটি চালুর উদ্যোগ নেন। কিন্তু ৬ মাসের মাথায় হলটি বন্ধ হয়ে যায়।
 
 
এবার ঢাকার রুহুল আমিন ভুঁইয়া লীজ ভিত্তিতে হলটি চালু করেন। তাকেও ৮ মাসের মাথায় হলটি বন্ধ করতে হয়। এরপর নারায়নগঞ্জের এম, এ মান্নান উদ্দ্যোগ নিয়ে হলটি ৩ বছর চালু রাখেন। মেহেরপুরের পটল ১ বছর এবং রাজবাড়ীর শরিফুল ইমাম মূল মালিকের স্ত্রীর সঙ্গে অংশীদারিত্বে  ২ বছর চালু রাখলেও নিয়মিত করতে পারেননি।
 
 
সর্বশেষ ১৯৯৮/৯৯ সালে হলটি বন্ধ হয়ে যাবার পর আর চালু করা যায়নি। সময়মত ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করে শিল্প ব্যাংকের ১৩ লাখ  ২০ হাজার টাকা ঋণের সুদ এবং আসল মিলে ৭০ লক্ষ টাকায় দাঁড়ায় বলে একটি সুত্র থেকে জানা যায়। শিল্প ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হলটির মূল মালিকের স্ত্রী সাঈদা আক্তার সাঈদ ইয়াজুদ্দিন, ফকরুদ্দিন ও মঈন উদ্দিনের তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তেলেসমাতি কায়দায় ৭০ লাখ টাকার সুদ আসল অবিশ্বাস্য রকম মওকুফ করিয়ে শুধুমাত্র আসল টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে হলটির দখল নিয়ে তড়িঘড়ি করে ভেঙ্গে ফেলে সেখানে উচ্চমূল্যে কাঠা প্রতি জমি বিক্রি করে দেয়।