চাটমোহর-চলনবিলে রবিশস্য আবাদ হুমকির মুখে

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৫, ০৮:৫৭
চাটমোহরসহ চলনবিলের রবিশস্য আবাদ এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। পানি নিরষ্কাশনে প্রবল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় এ অঞ্চলের ২০ হাজার হেক্টর জমির রবিশস্য আবাদ ব্যাহত হবে বলে কৃষক আশংকা করছেন।  চলনবিলের খাল-বিল, নদী-নালার পানি নামছে। আর এ সুযোগে কথিত মৎস্যজীবী, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদ ও সহযোগিতায় অবৈধ স্বোতি বাঁধ দিয়ে বিলের সকল প্রকার মাছ ছেঁকে তোলা হচ্ছে। অবৈধ স্বোতি বাঁধের ফাঁদে পড়ে উজার হচ্ছে চলনবিলের মৎস্য সম্পদ। একই সঙ্গে সময় মতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় রবিশস্য আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। পানি বের হতে না দেয়ায় কৃষককূল চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। স্বোতি বাঁধ স্থাপনকারীদের কাছে অসহায় স্থানীয় প্রশাসন। কারণ তারা অত্যন্ত প্রতাপশালী ও ক্ষমতাসীন আওযামী লীগের নেতা।  প্রশাসন লোক দেখানো ছোট ছোট দু’একটি অভিযান পরিচালনা করে জাল কেটে ধন্যবাদ পাওয়ার চেষ্টা করেছে মাত্র। কারণ স্বোতি বাঁধের ফাঁদে ধরা পড়া বোয়াল, বাইম, রায়েকসহ রকমারী দেশি মাছ চলে যাচ্ছে প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তি, প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের বাড়িতে। অনেকে নৌকা যোগে স্বোতি বাঁধে গিয়ে মাছ নিয়ে আসছে। প্রভাবশালী মহলের কাছে অসহায় প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরাও।
 
চাটমোহর উপজেলার চিকনাই নদীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় বেশ কয়েকটি স্বোতি বাঁধ স্থাপন করে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা অবাধে মাছ ধরছে। এই নদীর আটলংকা এলাকায় পুরো নদী বন্ধ করে স্থাপন করা হয়েছে স্বোতি বাঁধ। এছাড়া নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দেয়া হয়েছে। উপজেলার কিনু সরকারের জোলায়, হান্ডিয়াল কাটা জোলা পাকপাড়া, ডেফলচড়া, স্থল, ছাওয়ালদহ, ডিকশি বিল,গুমানী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টেসহ নানা স্থানে স্বোতি বাঁধ দিয়ে দেশী প্রজাতির সকল মাছ নিধন করা হচ্ছে। পানির গতি পথে চরম বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। হান্ডিয়ালের ডেফলচরায় আফতাব গং, পাকপাড়ায় বাবলু গং মহা দাপটে পানি নিষ্কাশনের পথ রোধ করে মাছ ধরছে। রবিশস্য আবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উজার হচ্ছে মৎস্য সম্পদ। সম্প্রতি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বোতি বাঁধ নিয়ে আলোচনা হয় এবং স্বোতি বাঁধ অপসারণে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু তার কোন প্রতিফল হয়নি। এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রওশন আলম জানান, প্রভাবশালীদের দেওয়া বাঁধের কারণে রবিশস্য আবাদ পিছিয়ে যাবে। কৃষক তাদের কাছে অসহায়। আমরা প্রশাসনকে বলেছি, কিন্তু কোন অগ্রগতি নেই। 
 
চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম শেহেলী লায়লা বলেন, আমরা অবৈধ সকল স্বোতি বাঁধ অপসারণের ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু কিছু সমস্যা তো রয়েছেই। চাটমোহরসহ চলনবিলের কৃষক অবিলম্বে স্বোতি বাঁধ অপসারণের জোর দাবি জানিয়েছেন ।