মনপুরার রামনেওয়াজ মৎস্যঘাটে পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দুই দফা সংঘর্ষে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ উভয় গ্রুপের ২০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। আহতদের মনপুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে থম থম অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৭শে অক্টোবর সকাল ১০টায় উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলা বাজার পার্স ব্যাবসায়ী রুহুল আমিনের নিকট ঢাকার নবাবপুর পার্স ব্যাবসায়ী পিন্টু দেড় লক্ষ টাকা পাবেন। তিনি তার পাওনা টাকা আদায় করার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন হাওলাদারের ছোট ভাই মৎস্য ব্যাবসায়ী লিটন হাওলাদারকে দেওয়ার জন্য বলেন। পরে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ যুগ্ন সম্পাদক মো. আলমগীর মেম্বারের ছোট ভাই মৎস্য ব্যাবসায়ী মো. শাহাবউদ্দিন গদিঘরের আনসার কেরানী দেড়লক্ষ টাকার জিম্মা নেন।
২৭শে অক্টোবর ব্যাবসায়ী রুহুল আমিন পাওনা টাকা দেওয়ার জন্য আসলে লিটনকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন। বাকী টাকা পরে দিবে বললে কথা কাটকাটি হয়। পরে লিটন রুহুল আমিনকে পুরো টাকা দেওয়ারজন্য চাপ দিলে কথা কাটকাটির একপর্যায়ে লিটন রুহুল আমিনকে মারধর করে। পরে আলমগীর মেম্বারের ছোট ভাই গদিঘরের ব্যাবসায়ী সাহাবউদ্দিনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা দাওয় হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনার জন্য পুলিশকে খবর দিলে ঘটনা স্থলে পুলিশ গিয়ে নিয়ন্ত্রনে আনেন। পরে কলাতলী চর থেকে অলাউদ্দিন চেয়ারম্যানের লোকজন ট্রলার ভর্তি করে মূল ভুখন্ডে উঠার চেষ্ঠা করলে পরিস্থিতি আবারও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শুরু হয় দুগ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। পুলিশ নিয়ন্ত্রন আনার চেষ্টা করলেও উত্তেজিত লোকজন সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ছড়াগুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনেন। সংঘর্ষে আলাউদ্দিন চেয়ারম্যানের গ্রুপের আলাউদ্দিন চেয়ারম্যান (৪৫), ওলি(৪৭), নিপুর(৩৫), লিটন(২৫), কামরুল(৩০), মমিন(৩০), শাহাবউদ্দিন(২৮), আজিজ(৩২), আলাউদ্দিন মেস্তরী(৩২), আলমগীর মেম্বার গ্রুপের আলমগীর(৪০), মোস্তফা (৩২), কামরুল(২৮), জুয়েল(২০), রুহুল আমিন মেম্বার(৪৫), মিজান (৩২), বাছেদ(৩০), বাবুল(২৫), নাহিদ(২২) ও বিপ্লব(৩০) আহত হয়েছেন।
IMG0
আহতদের মনপুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থম থম অবস্থা বিরাজ করছে। ফের যে কোন মুহুর্তে সংঘর্ষ ঘটার সম্ভবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই মোহাম্মদ আলী বলেন, ঘটনা শুনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। ঘটনা স্থলে পুলিশ নিয়েজিত আছে। আওয়ামী লীগ নের্তৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয়গ্রুপকে শান্ত থাকার জন্য নির্দেশ দেন।
