২০০৭ সালেই অবসর নিতে চাইলেও সে সময় শচীন টেন্ডুলকারের কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সদ্য অবসর নেয়া ভারতীয় ব্যাটসম্যান বীরেন্দ্র শেবাগ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ২০০৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয় ভারত। এরপর ভারতীয় দলের ওপর দিয়ে ঝড়টা গেছে বড় আকারে। কিন্তু তারপরও দলের সেরা তারকা ঠিকই টিকে ছিলেন দলে। বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ সফরে সেরা তারকাদের নিয়েই খেলতে আসে ভারত। কিন্তু বাংলাদেশ সফরে দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৩০ ও ২১ রান করেন শেবাগ। এরপরই দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। ফলে অবসর নেয়ার পরিকল্পনা করতে থাকেন শেবাগ। তবে টেন্ডুলকারের পরামর্শে সেই অবসর ভাবনা থেকে সড়ে আসেন শেবাগ। তখন না পারলেও বীরের বেশে মাঠ থেকেই বিদায় নেয়ার ইচ্ছাটা মন জুড়েই ছিলো শেবাগের। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফর্মে থাকতেই প্রত্যেক খেলোয়াড় ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চায়। যদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সময় বিদায় নিতে পারতাম, তবে আমিও একটি বিদায়ী ভাষণ দিতে পারতাম। কিন্তু ভাগ্য আমার জন্য ভিন্ন কিছু লিখে রেখেছিলো।
IMG0
তিনি জানান, দল থেকে বাদ পড়ার পরই ২০০৭ সালে অবসর নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু টেন্ডুলকারের পরামর্শে নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসি। ভারতের মারকুটে এ ওপেনার বলেন, ২০০৭ সালে দল থেকে বাদ পড়ার পর অবসরের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু আমাকে অবসর নেয়া থেকে বিরত রাখেন টেন্ডুলকার।
ভারতের জার্সি গায়ে সর্বশেষ ২০১৩ সালে খেলেছেন শেবাগ। ফর্মহীনতার অজুহাত দেখিয়ে তাকে দল থেকে বাদ দেন নির্বাচকরা। যদি বুঝতে পারতেন তখনই ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিতেন এমনটাও জানালেন শেবাগ। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাদ দেয়ার আগে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচকরা আমার কাছে কিছুই জানতে চায়নি। ওই সময় তারা যদি তাদের সিদ্ধান্তটা আমাকে জানিয়ে দিতেন, তবে ওই সিরিজেই আমার অবসরের ঘোষণা দিয়ে দিতাম। এক সপ্তাহ আগে ৩৭তম জন্মদিনে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘোষণা দেন শেবাগ। ভারতের হয়ে ১৪ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ১০৪টি টেস্ট, ২৫১টি ওয়ানডে ও ১৯টি টি টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। টেস্টে ৮৫৮৬, ওয়ানডেতে ৮২৭৩ ও টি-টোয়েন্টিতে ৩৯৪ রান করেন ৩৭ বছর বয়সী শেবাগ। বাসস।
