বর্জ্যমুক্ত রাতারগুল

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৫, ০১:০২
‘একেক সময় একেক রূপ ধরে রাতারগুল। বর্ষায় এক রকম, হেমন্তে অন্যরকম। রাতারগুলের মোহনীয়  সৌন্দর্য একবার দেখলে সেটা আর ভোলা যাবে না।’ এমন মন্তব্য স্থানীয় বন সংরক্ষকদের। দেশের একমাত্র এই ‘সোয়াম্প ফরেস্ট’ বা জলাবন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। এই বনের স্বীকৃতি চার দশক আগে হলেও বছর তিনেক ধরে ভ্রমণ পিপাসুদের দৃষ্টি কেড়েছে; কিন্তু বিশেষায়িত এই বনের ভিতরের সৌন্দর্য উপভোগের নিয়ম কেউ মানেন না। বনের ভিতর হৈ-হল্লা করে চলেন তারা। যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলেন। বাদামের খোসা, চিপস, বিস্কুটের প্যাকেট, বিভিন্ন পানীয় জলের প্লাষ্টিক বোতলসহ  নানা আবর্জনা ফেলে বনকে বিপন্ন করে তুলছেন। 
 
এরকম পরিস্থিতিতে বনটির পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন স্থানীয়রা। দেশের এই অনন্য পর্যটন এলাকাটিকে বর্জমুক্ত করেছেন তারা। সম্প্রতি স্থানীয় চারটি গ্রামের ছাত্রদের নিয়ে গঠিত ‘চৌগ্রাম ছাত্র কল্যাণ পরিষদ’ এর উদ্যোগে বনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাতারগুল বিট অফিস প্রাঙ্গণে সমাপ্ত হয়। এ সময় বনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কুড়িয়ে আনা পানির বোতল, চিপস-চানাচুরের প্যাকেট, খাবারের মোড়কসহ অপচনশীল প্রায় দশ বস্তা বর্জ্য আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
 

এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তারা শুধু বর্জ্য অপসারণ নয় বরং ভবিষ্যতে যেন এই বনে পরিবেশ বিধ্বংসী কোনো কর্মকাণ্ড সংঘটিত না হয় সে ব্যাপারে বনবিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্য রাখেন। চৌগ্রাম ছাত্রকল্যাণ পরিষদ সভাপতি সাদিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম, ‘ভূমিসন্তান বাংলাদেশ’-এর সমন্বয়ক আশরাফুল কবির, ‘গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটি’র শাহরিয়ার আলম শোভন, সেলিম উদ্দিন প্রমুখ ।