কানাডার প্রেইরিতে বাংলাদেশের বাণিজ্য সহযোগিতার সম্ভাবনা

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৫, ১০:২৪
ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কানাডার প্রেইরি অঞ্চলের অন্যতম প্রদেশে সাস্কাচুয়ানে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ-কানাডা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের বর্তমান পরিমাণ প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার, এর​ মধ্যে ২০১৪ সালে সাস্কাচুয়ান প্রদেশের অংশ ছিলো ৪১০ মিলিয়ন ডলার (যা ২০১৩ সালের চাইতে ২৬ শতাংশ বেশি)। উচ্চশিক্ষা, কারিগরি সহযোগিতা এবং ইমিগ্রেশনের ক্ষেত্রেও সাস্কাচুয়ান হতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম অংশীদার। ২০০৭ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত কানাডার সাস্কাচুয়ানেই​ ১৪০০ বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবী ইমিগ্রেশন নিয়ে এসেছেন। কেবল ২০১৫ সালেই ১০০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আন্ডারগ্র্যাড প্রোগ্রামে সাস্কা​চুয়ানের বিভিন্ন বিশ্বাবদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে।
 
দূতাবাসের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) দেওয়ান মাহমুদ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতের জানান যে, বিদ্যমান এ সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে প্রাদেশিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা এবং সাস্কাচুয়ান লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকারের সাথে গত ২৮ ও ২৯শে অক্টোবর​ বৈঠক করেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার কামরুল আহসান। গুরুত্বপূর্ণ এ​ সফরকালে সাস্কাচুয়ান পার্লামেন্টের চলতি অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন সাস্কাচুয়ানের​ প্রাদেশিক প্রধানমন্ত্রী (প্রিমিয়ার) ব্রাড ওয়াল।  
 
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে প্রিমিয়ার ব্যাড ওয়াল একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল নিয়ে বাংলাদেশে সফর করেন। সে সময়ে​ প্রধানমন্ত্রী শেখ হানিসার সাথে তার সাক্ষাতের বিষয়টি তুলে ধরে প্রিমিয়র ব্যাড ওয়াল বলেন, তার​ সেই​ সফরের পর থেকে কানাডা-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে যার অন্যতম অংশীদার সাস্কাচুয়ান প্রভিন্স।
 
সাস্কাচুয়ান লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার ড্যান ডি অটরেমন্ট-এর সাথে বৈঠককালে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ)'র চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচিত হবার ক্ষেত্রে কানাডার ভূমিকার জন্য কানাডাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন হাই কমিশনার কামরুল আসহান। তিনি বাংলাদেশ এবং কানাডার পার্লামেন্টের মধ্যে অভিজ্ঞতার বিনিময় ও সংসদীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষনের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। স্পিকার এ বিষয়ে তার সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। 
 
সফরকালে সাস্কাচুয়ানের কৃষিমন্ত্রী লাইল স্টুয়ার্টের সাথে বৈঠক করেন বাংলাদেশের হাই কমিশনার। বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশে কানাডার সাস্কাচুয়ান থেকে মসুর ও​ বুটের ডাল, পটাশ সার ইত্যাদি রপ্তানি হচ্ছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী স্টুয়ার্ট বলেন, এ সুযোগ ভবিষ্যতে বাড়বে বলে তিনি আশা করেন। বাংলাদেশের হাই কমিশনার বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে ইউরিয়া ও ডিএপি সারের এবং খাদ্যপণ্যের বাজারে গমের​ ব্যাপক চাহিদা রয়েছে উল্লেখ করে বলেন, এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কানাডার অধিকতর অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এ সময় কৃষিমন্ত্রী গত বছরে কানাডার সার সরবরাহকারী কোম্পানিসমূহের জোট 'ক্যানপোটেক্স' এর মাধ্যমে পটাশ সার সরবরাহে বাংলাদেশের সাথে​ সম্পাদিত চুক্তির জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।
 
উল্লেখ্য, সাস্কাচুয়ান প্রদেশ বছরে প্রায় আট মাস তীব্র শীত ও বরফাচ্ছাদিত থাকা সত্ত্বেও পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ শস্য উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে যা বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।IMG0
​
এছাড়াও উচ্চশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী স্কট মো'র সাথে তার পার্লামেন্ট ভবনস্থ কার্যালয়ে বৈঠককালে বাংলাদেশ হতে অধিক হারে কৃষি ও কারিগরি প্রশিক্ষণে ছাত্রবৃত্তি প্রদানের আহ্বান জানান বাংলাদেশের হাই কমিশনার।
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানায় প্রশিক্ষিত সুপারভাইজার তৈরির জন্য কানাডার সাস্কাচুয়ানের সহযোগিতা খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে​। এ বিষয়ে সাস্কাচুয়ান পলিটেকনিট ইন্সটিটিউটের অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে উচ্চ​ শিক্ষামন্ত্রী স্কট মো বলেন, তার দেশ বাংলাদেশের প্রস্তাব গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখবে।
 
সাস্কাচুয়ানের অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী বিল বয়েডের সাথে বৈঠককালে হাই কমিশনার বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগ, বন্দর, রেলওয়ে, মেট্রোরেল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত উৎপাদন ইত্যাদি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে কানাডার অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার আহ্বান জানান। অর্থমন্ত্রী বিল বয়েড এজন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং বলেন বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে সাস্কাচুয়ান অত্যন্ত আগ্রহী এবং এ বিষয়ে তারা কাজ করে যাবেন।