দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র 'ইতিহাস বিতণ্ডা'

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৫, ২২:৩০
 
দক্ষিণ কোরিয়ায় ইতিহাস বিষয়ক পাঠ্যবই নিয়ে বিতর্ক তীব্র রূপ নিয়েছে। সরকার মঙ্গলবার স্কুল পর্যায়ে ইতিহাস বিষয়ক পাঠ্যবই সরবরাহের যে ঘোষণা দিয়েছে তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বিরোধী দল ও শিক্ষাবিদ।
 
প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাইয়ের পিতা সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক চুং হি ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এ ধরনের ইতিহাস বই চালু করেছিলেন। কিন্তু ২০০৩ সালে এসে এ পদ্ধতি শিথিল হয়ে পড়ে। ২০১০ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় বেসরকারিভাবে ইতিহাস বই প্রকাশ হতে থাকে। পার্কের রক্ষণশীল প্রশাসন বলছে এসব বই বামঘেঁষা যা প্রকারান্তরে উত্তর কোরিয়াপন্থী হয়ে পড়েছে।
 
এদিকে সরকারি পর্যায়ে ইতিহাসের বই সরবরাহের নতুন এ নীতি দেশটির ডান ও বাম পন্থীদের আদর্শগত দ্বন্দ্বকে আরো তিক্ততায় নিয়ে যাচ্ছে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সমালোচকরা বলছেন প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন হাই-এর প্রশাসন দক্ষিণ কোরিয়ার সৃষ্টি-ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা করছে।  
 
দেশটির প্রধানমন্ত্রী হুয়াং কো আন ও শিক্ষামন্ত্রী হুয়াং উ ইয়ে নিশ্চিত করে বলেছেন ২০১৭ সাল থেকে মধ্য ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সরকার প্রণীত ইতিহাস বই সরবরাহ করা হবে। তারা বলছেন, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের একপেশে ইতিহাস শিক্ষা দিতে পারি না।
 
দক্ষিণ কোরিয়ায় ইতিহাস নিয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৯৫০-৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের দায় কার বেশি। এছাড়া রয়েছে ১৯১০-৪৫ সাল পর্যন্ত জাপানী ঔপনিবেশিক শাসনে সহায়তার মতো স্পর্শকাতর ইস্যু।
 
এদিকে সরকার প্রণীত ইতিহাস বইয়ে কর্তৃত্ববাদী এবং সামরিক শাসনের গুণগান করা হবে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন হুয়াং। তবে উদারপন্থী রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, ছাত্র এবং সুশীল সমাজ সরকারি নীতির সমালোচনায় সোচ্চার হয়ে উঠেছেন এবং এর প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমেছেন।
 
প্রধান বিরোধী দল নিউ পলিট্রিক্স ফর ডেমোক্রেসি (এনপিএডি) মঙ্গলবারের সরকারি ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলটির প্রধান মুন জে বলেছেন, জনগণের তীব্র বিরোধিতায় কান দিচ্ছে না সরকার। তারা বধির হয়ে পড়েছে।
 
এদিকে গত সপ্তাহে প্রকাশিত গ্যালাপ কোরিয়ার জনমত জরিপে দেখা গেছে ৪৯ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক কোরিয়ান সরকারের এ নীতির বিরোধিতা করছে। এর সমর্থনে কথা বলেছে ৩৬ শতাংশ লোক। উল্লেখ্য নতুন নীতি অনুযায়ী ইতিহাস বই লেখার কাজ করবেন সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের প্যানেল। সূত্র: এএফপি