বাংলাদেশ দলের নির্ভরযোগ্য মিডেল অর্ডার ব্যাটসম্যান এবং উইকেটের পেছেনে নিরালসভাবে খেটে যাওয়া মুশফিকুর রহিম রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। বেশ কিছুদিন বিরতীর পর ব্যাট হাতে মাঠে নেমে অপরাজিত ছিলেন ৮৪ বলে ৮১ রানে।
এ ছাড়াও অর্ধশতক করেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে দল থেকে ছিটকে পড়া দুই ওপেনার এনামুল হক ও ইমরুল কায়েস। তাদের কল্যাণে ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭৭ রান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২১ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ১০৪ রান সংগ্রহ করেছে জিম্বাবুয়ে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা শাহরিয়ার নাফিস আউট হয়েছেন ৩৮ রান করে। তবে প্রস্তুতি খুব একটা ভালো হয়নি ওয়ানডে দলে থাকা দুই ব্যাটসম্যান লিটন দাস ও সাব্বির রহমানের। ২৫ রান করেছেন লিটন, সাব্বির ৩।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বিসিবি একাদশকে দারুণ সূচনা এনে দেন ইমরুল ও এনামুল। প্রথম বলে চার মেরে শুরু করেছিলেন ইমরুল; ইনিংসের প্রথম ছক্কাও আসে তার ব্যাট থেকেই। শুরুতে রানের চাকাটা সচল রেখেছিলেন ইমরুলই। আর যথারীতি শুরুতে সময় নিয়েছেন এনামুল। ১০ ওভারের পর থেকে হাত খোলেন এনামুলও। বাঁহাতি স্পিনার ওয়েলিংটন মাসাকাদজার এক ওভারে দুজন মারেন দুটি ছক্কা।
ইমরুল লেগ স্পিনার গ্রায়েম ক্রেমারকে প্রথম ওভারেই বেরিয়ে এসে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৫৬ রানে ক্যাচ আউট হন। পরের বলেই ব্যাটের কানা ছোঁয়া বাউন্ডারিতে এনামুল ছুঁয়ে ফেলেন অর্ধশত। খানিকপর তিনিও অণুসরণ করেন ইমরুলকে। ক্রেমারকেই বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড ৫২ রানে।
তৃতীয় উইকেট জুটিতে নামা লিটনের শুরুটা ছিল সম্ভাবনা জাগানো। পানিয়াঙ্গারাকে সোজা ব্যাটে ছক্কা মারার পর হাঁটু গেড়ে মিড উইকেট দিয়ে উড়িয়েছেন ক্রেমারকে। কিন্তু পরের বলে আবার স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন সেই ক্রেমারকেই (২৩ বলে ২৫)। খানিকপর সাব্বিরও উইকেট উপহার দিয়ে ফিরলে উইকেটে আসেন শাহরিয়ার নাফীস। খানিকটা চাপে পড়ে যাওয়া বিসিবি একাদশকে উদ্ধার করে মুশফিক ও শাহরিয়ারের জুটি। পঞ্চম উইকেটে ৭৮ বলে ৯০ রানের জুটি গড়েন জাতীয় দলে এক সময়ের দুই সতীর্থ।
বাঁহাতি স্পিনার টেন্ডাই চিসোরোকে সোজা ব্যাটে চার মেরে শুরু করেছিলেন শাহরিয়ার। অনভ্যস্ত পজিশন ছয় নম্বরে নেমে চেষ্টা করেছেন পরিস্থিতির দাবি মেটানোর। ডাউন দা উইকেটে এসে লং অনের ওপর দিয়ে উড়িয়েছেন এল্টন চিগুম্বুরাকে। শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন প্রিয় শটে, মিডিয়াম পেসার লুক জঙ্গুয়েকে ফ্লিক করতে গিয়ে বল তুলে দেন আকাশে (৩৮ বলে ৩৮)।
বাকি পথটুকু বলতে গেলে একাই টেনেছেন মুশফিক। আরেকপাশ থেকে যোগ্য সহায়তা পাননি বলে শেষ ১০ ওভারে রান এসেছে মাত্র ৬৪। মাশরাফি বিন মুর্তজা ব্যাটিংয়ে নামলেও রানআউট হয়েছেন ২ বল খেলেই। ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক। বিডি নিউজ/ইএসপিএন ক্রিকইনফো।
