ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৭ রানে শারজাহ টেস্টও জিতলো পাকিস্তান। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিলো পাকিস্তান। এই জয়ে র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয়স্থানে উঠে এলো মিসবাহর দল এবং ষষ্ঠস্থানে নেমে যেতে হলো ইংল্যান্ডকে।
সিরিজের প্রথম টেস্ট ১৭৮ রানে জিতলেও, দ্বিতীয় টেস্ট ইংল্যান্ডের সাথে ড্র করে পাকিস্তান। জিততে হলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ২৮৪ রান। এশিয়ার মধ্যে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করে ২০০ এর বেশি রান তাড়া করে মোট তিনবার ম্যাচ জিতেছিলো ইংল্যান্ড। সর্বশেষ ২০১০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে। তাই পাকিস্তান চতুর্থ দিন ইংল্যান্ডের সামনে যখন ম্যাচ জয়ের জন্য ২৮৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দিয়েছিলো, তখনই ম্যাচের ফল অনেকেই আন্দাজ করে ফেলেছিলেন। বিশেষভাবে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা। কারণ আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছিলেন তারা। চতুর্থ দিন শেষে ৪৬ রানের বিনিময়ে ইংল্যান্ডের ২ উইকেটও তুলে নেয় পাকিস্তানের বোলাররা। তাই পঞ্চম ও শেষ দিনে পাকিস্তানের জয় আর ইংল্যান্ডের হারটা সময়ের ব্যাপারই ছিলো। পাকিস্তানের উদযাপনের শুরুটা হয়েছিল স্পিনার ইয়াসির শাহের হাত ধরে । ৬ রান নিয়ে শুরু করা জো রুটকে ওখানেই থামিয়ে দেন ইয়াসির।
IMG0
এরপর জুলফিকার বাবরকে নিয়ে ইংল্যান্ডের মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেন ইয়াসির। মিডল-অর্ডারে জেমস টেইলর ও সামিত প্যাটেলকে আউট করেন জুলফিকার। আর জনি বেয়ারস্টোকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান ইয়াসির। টেইলর ২, বেয়ারস্টো ও প্যাটেল শূন্য রানে থামেন। ৬ উইকেটে ৫৯ রান। দলের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার মাঝেও, এক প্রান্ত আগলে লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক। তাকে সঙ্গ দেন আদিল রশিদ। ফলে ঐ জুটি থেকে রান আসে ৪৯। তাতে দলীয় স্কোর শত রান ছাড়িয়ে যায়। দলীয় ১০৮ রানে রশিদকে উইকেট পতনের তালিকায় নাম তুলে পাকিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ এক ব্রেক-থ্রু এনে দেন পেসার রাহাত আলী। মাত্র ২২ রান করে ফিরেন রশিদ।
রশিদের মত কুককে কিছুক্ষণ সঙ্গ দিয়েছেন স্টুয়ার্ট ব্রড। তিনিও খেলেন ২০ রানেই ইনিংস। তবে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে কুক আউট হবার পর ৬ রান পরই ১৫৬ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস। টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪৭তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৬৩ রানে আউট হন কুক। এই ইনিংসে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন ইয়াসির। ফলে সিরিজে তার উইকেট শিকারের সংখ্যা গিয়ে দাড়ায় ১৫। তাই সিরিজ সেরার পুরস্কারটা হাতে উঠে ইয়াসিরেরই। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান মোহাম্মদ হাফিজ। মধ্যাহ্ন বিরতির পরই ম্যাচ জয়ের উল্লাস মন ভরে করেছে পাকিস্তান। কারণ ম্যাচ জয়ের সাথে সাথে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ফেলে তারা। সেই সাথে র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয়স্থানে উঠে আসে ইউনুস-ইয়াসিররা।
IMG1
ম্যাচ জয়ের পর পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক বলেন, দারুণ এক জয় পেলাম। ছেলেরা ভালো খেলেছে। বিশেষভাবে ইয়াসির। পুরো সিরিজেই তার অবদান অনেক বেশি ছিলো। ইংল্যান্ডও ভালো লড়াই করেছে। অবসরের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে মিসবাহ জানান, আমাদের পরবর্তী টেস্ট সিরিজ সাত মাস পর। তাই এটি নিয়ে এখনই চিন্তা করার কিছু নেই। এসব নিয়ে পরে ভাবা যাবে। ম্যাচ হেরে হতাশ ইংল্যান্ড দলপতি কুক। তিনি বলেন, তিন ম্যাচে আমরা ভালোই খেলেছিলাম। তারপরও সিরিজ হারলাম। আসলে, তিন ম্যাচের কোনটিতেই পাকিস্তানের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারিনি আমরা। বাসস।
