শুরুতে ৪৭ রানে তিন উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে বেশ সামলে উঠেছিল চিগুম্বুরা, উইলিয়ামস এবং ওয়ালারের হাত ধরে। কিন্তু আলআমিন, মাশরাফি ও মুস্তাফিজের ঝটিকা আক্রমণে আবারো ভেঙে পড়ে জিম্বাবুয়ের প্রতিরোধ।
৪৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া জিম্বাবুয়েকে ভালোই পথ দেখাচ্ছিলেন অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরা ও সেন উইলিয়ামস। তবে তাদের সেই পথ চলা খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। ৮০ রানের জুটিটি ভেঙেছিল সাব্বির রহমান। তার বলে ব্যক্তিগত ৪৫ রানে বোল্ড আউট হয়েছেন চিগুম্বুরা। এরপর ওয়ালারকে সঙ্গে নিয়ে রান রেট ৫-এর বেশি রেখে স্কোর এগিয়ে নিয়ে যান উইলিয়ামস। কিন্তু আলআমিনের আক্রমণে ৩২ রানে সাজঘরে ফেরেন ওয়ালার। তার পরের ওভারেই মাশরাফি তাণ্ডবে সাজঘরে ফেরেন উইলিয়ামস। ক্যারিয়ারের ২৪তম অর্ধশতক পূর্ন করে আউট হন তিনি। এরপর শুরু মুস্তাফিজ জাদু। একটু বিরতি নিয়ে বোলিংয়ে এসে আবারো দুমড়ে-মুচড়ে দেন জিম্বাবুয়ের টেল অর্ডারদের।
অবশ্য জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শুরুতেই উদ্বোধনী জুটিকে ফেরত পাঠান মুস্তাফিজুর রহমান। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান চামু চিবাবাকে বোল্ড আউট করেন তিনি। তার দ্বিতীয় শিকার হন রেজিস চাকাভা। ব্যক্তিগত ১৭ রানের নাসির হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। দলীয় ৪৭ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারিয়ে প্রাথমিক চাপে পড়ে সফরকারী। নাসির হোসেনের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন ক্রেইগ আরভিন।
এর আগে বুধবার মিরপুর শেরে-বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে যথার্থ বলে প্রমাণ করেন দুই ওপেনার। ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবালের ১৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভর করে ২৭৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। মিডল অর্ডারে ছন্দপতন না হলে স্কোরটা আরো বড় হতে পারত।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৪৭ রানে প্রথম উইকেটের পতন হয় স্বাগতিকদের। ব্যক্তিগত ৭৩ রানে সিকান্দার রাজার বলে চাকাভার গ্লাভসে ধরা পড়েন আগের দিনের সফল ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস। পরে তামিম ইকবালও ব্যক্তিগত ৭৩ রানে আউট হন। এরপর অনেকটাই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় বাংলাদেশ। একে একে সাজঘরে ফেরেন মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, সাব্বির রহমান ও নাসির হোসেন। নাসির হোসেন আউট হলে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২৬/৬।
এরপর মাহমুদউল্লাহ ও মাশরাফির ৩৭ রানের জুটিতে ভর করে স্বাগতিকদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৭/৮ রান।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
