বিপিএলে শ্রীলঙ্কানদের এনওসি জটিলতা

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৫, ১৬:২৪
যদিও এক ঝাঁক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) বিভিন্ন দল স্কোয়াডে যোগ করে ফেলেছে। কিন্তু বিপিএল খেলতে চাওয়া বোর্ডের সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ১৬ ক্রিকেটারকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেবে না শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের অপারেশন ম্যানেজার চার্লটন বার্নাদুস এমনটি জানিয়েছেন। ফলে এসব ক্রিকেটারের বিপিএল খেলতে আসা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
 
দেশটিতে ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রিমিয়ার লিমিটেড ওভারস টুর্নামেন্ট এবং আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরকে সামনে রেখেই এসএলসি এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে জানান চার্লটন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের অনুমতি দেয়া হবে না। কারণ সামনে নিউজিল্যান্ড সফর। যার জন্য খেলোয়াড়রা ২৭ নভেম্বর দেশ ছাড়বে। কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের মধ্যে যারা সফরসঙ্গী হবে না বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদেরকেও দেশে থাকতে হবে এবং ২০ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেলতে হবে।
 
নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য এসব ক্রিকেটারের কাউকে প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি ঘরোয়া প্রিমিয়ার লিমিটেড ওভারস টুর্নামেন্টে ভালো খেলোয়াড়দের ধরে রাখতেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছে এসএলসি। পুরো মৌসুম জুড়েই দেশটির ক্লাবগুলো যাতে তাদের ভালো খেলোয়াড়দের পায় সেদিকটিও বিবেচনায় নিয়েছে তারা।
 
যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরি জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড অনাপত্তিপত্র আটকাবে না বলেই তারা আশাবাদী। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এসএলসি অনাপত্তিপত্র দেবে বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।
 
২২ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিপিএলের তৃতীয় আসরের জন্য ২৫ জন লঙ্কান ক্রিকেটারের অনাপত্তিপত্রের জন্য এসএলসির কাছে আবেদন জানিয়েছে বিসিবি। যার মধ্যে ১৭ ক্রিকেটার বোর্ডের সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আবদ্ধ। এদের মধ্যে লাহিরু থিরিমান্নে-সচিত্রা সেনানায়েকের মতো ক্রিকেটাররা রয়েছেন।
 
১৭ ক্রিকেটারের মধ্যে জীভন মেন্ডিসের বিষয়টি একটু ভিন্ন। মেন্ডিস বিপিএল খেলতে তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ক্লাবের বিশেষ অনুমতি নিয়েছেন। বোর্ডের সঙ্গে কাজ করা জাতীয় নির্বাচকরা চাইলে এখনো তার অনাপত্তিপত্র না দিতে পারে বলে জানিয়েছেন চার্লটন।
 
তবে বোর্ডের সঙ্গে যেসব ক্রিকেটার কেন্দ্রীয় চুক্তি আবদ্ধ নয় তাদের বিপিএল খেলতে আটকাবে না এসএলসি। এক্ষেত্রে ঐসব ক্রিকেটারের ঘরোয়া ক্লাবগুলোর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। চার্লটন বলেন, ‘যেসব ক্রিকেটারের বোর্ডের সঙ্গে এমন চুক্তি নেই, তারা তাদের ক্লাবগুলো থেকে অনুমতি নিতে পারে। যেমন, দিলশান মুনাবিরা চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় নয়। ব্লুমফিল্ড সিসির সভাপতি তাকে অনুমতি দিয়েছেন। তাতে কোনো সমস্যা নেই।’
 
চলতি বছর ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ক্রিকেটকে খেলোয়াড়দের আয়ের স্থায়ী উত্স হিসাবে গড়ে তুলতে ঘরোয়া খেলাগুলোতে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়িয়েছে তারা। এছাড়া আসন্ন মৌসুমে আঞ্চলিক ক্রিকেটকে জোর দেয়ার পরিকল্পনাও করছে দেশটি। এসএলসি ১৬ ক্রিকেটারের অনাপত্তিপত্র আটকে দিলে কিছুটা হলেও যে বিপিএল রঙ হারাবে তাতে সন্দেহ নেই।
 
অনাপত্তিপত্র জটিলতায় যারা
 
শিহান জয়সুরিয়া, ইসুরু উদানা, ধাম্মিকা প্রসাদ, মিলিন্দা সিরিওয়ারদানা, বিনুরা ফার্নান্দো, অজান্তা মেন্ডিস, লাহিরু থিরিমান্নে, কিথরুয়ান ভিথানাগে, নিরোশান দিকবেলা, প্রসন্ন জয়াবর্ধনে, আশান প্রিয়ঞ্জন, সচিথ পাথিরানা, সচিত্রা সেনানায়েক, সিকুগে প্রসন্ন, উপল থারাঙ্গা এবং জীভন মেন্ডিস। ক্রিকইনফো।