অভিবাসী সংকট মোকাবিলায় ইইউ ও আফ্রিকান নেতাদের বৈঠক

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৫, ১৭:৫৭
 
ইউরোপ অভিমুখে অভিবাসীদের স্রোত প্রশমিত করতে মাল্টায় মিলিত হয়েছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও আফ্রিকার নেতারা। অভিবাসীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে অস্থায়ী চৌকি বসিয়েছে সুইডেন। স্থানীয় সময় বুধবার তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যবর্তী লেসবসে সমুদ্রে নৌকা ডুবে ১৪ ইউরোপমুখী অভিবাসী নিহত হয়েছেন। এর ৭ জনই শিশু। ২৭ জনকে জীবন্ত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। 
 
লিবিয়ায় নৌকাডুবে ৮ শত অভিবাসীর মৃত্যুর পর গত এপ্রিলে বৈঠকটির পরিকল্পনা করা হয়। ২০১৫ সালে প্রায় ৮ লাখ অভিবাসী ইউরোপে ঢুকেছে। ইউরোপে ঢুকতে গিয়ে মারা গেছে ৩ হাজার ৪৪০ জন অভিবাসী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে প্রায় দেড় লাখ আফ্রিকান ইউরোপে ঢুকেছে। এরা মূলত ইতালি ও মাল্টায় প্রবেশ করেছে। কিন্তু এই সংখ্যাকে অনেক পেছনে ফেলে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষ, যাদের বেশির ভাগই সিরীয় ইউরোপে ঢুকেছে। তারা তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্য দিয়ে ইউরোপে ঢুকেছে।
 
অভিবাসীদের ব্যাপারে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইউরোপের নেতারা। মাল্টা শীর্ষ বৈঠকে অভিবাসী সংকট মোকাবিলায় সাহায্যের জন্য ইইউ আফ্রিকার দেশগুলোকে শত শত কোটি ডলার দেয়ার ঘোষণা দিতে পারে। আফিকার জন্য ১ মত ৮০ কোটি ডলারের ফান্ড গঠন করছে ইউরোপিয়ান কাউন্সিল। বিবিসির প্রতিবেদক ক্রিস জানান, আফ্রিকার নেতারা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সংখ্যক আফ্রিকানকে বৈধভাবে অভিবাসনের সুযোগ দেয়ার দাবি জানাবেন।
 
 গ্রিস, ইতালি ও হাঙ্গেরি যারা সবচেয়ে বেশি  অভিবাসীকে আশ্রয় দিয়েছে তারা চাপ দিচ্ছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে। ইইউ নেতারা গ্রিস ও ইতালি থেকে কিছু অভিবাসীকে অন্য দেশে নেয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে। তবে এপর্যন্ত মাত্র দেড়শত অভিবাসীকে অন্যত্র সরানো সম্ভব হয়েছে।
 
সুইডেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন তার দেশ অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণে সীমান্তে অস্থায়ী চৌকি বসাবে।
 
এদিকে অভিবাসীদের নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে ইইউ’র নেতাদের মধ্যে জার্মানি বলেছে ইউরোপের যে দেশে প্রথম কোন অভিবাসী ঢুকবে জার্মানি থেকে তাকে আাাবার সে দেশে ফেরত্ পাঠানো হবে। এই বিবৃতির তীব্র সমালোচনা করেছে হাঙ্গেরি। হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিছু জার্মান নেতার বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করার অভিযোগ এনেছেন।
 
এ দিকে, ক্রেয়েশিয়া সীমান্তে কাটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু করেছে স্লোভেনিয়া। স্লোভেনিয়ার এই সিদ্ধান্তে সমালোচনা করে ক্রোয়েশিয়া বলেছে এই টাকা বরং অভিবাসীদের আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় করা উচিত।