আর একদিন পরই সেই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। আগামী ১১ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশে ৮ম বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ তথা ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। স্বাধীন দেশে ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। সবচেয়ে মজার কথা হলো সেই ডাকসু নির্বাচন কিন্তু হয়েছিল গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় নয় বরং তত্কালীন স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের সময়ে। কিন্তু তারপর থেকে এই দেশে আজ পর্যন্ত দীর্ঘসময় শাসন ক্ষমতায় গণতান্ত্রিক সরকার, অথচ গণতান্ত্রিক এসব সরকারের আমলেই ডাকসু নির্বাচন ছিল সবচেয়ে উপেক্ষিত। থাক সে কথা, এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন হলো— কেন ডাকসু চাই, কেমন ডাকসু চাই এবং কিভাবে ডাকসু চাই?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থীই বর্তমানে অনাবাসিক। ফলে তারা ক্যাম্পাসের সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল নন। অন্যদিকে আবাসিক শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কর্মী অথবা সমর্থক হিসেবে হলে অবস্থান করে থাকেন। ফলে ক্যাম্পাসের সম্পূর্ণ হালহকিকত জানা সত্ত্বেও অনেক সময় চুপ থাকেন হলে সিট ঠিক রাখার জন্য। এমতাবস্থায় অনেকের আশঙ্কা কী হবে ডাকসু নির্বাচনে? তাদের প্রশ্ন— আমার ভোটের মূল্য কতটুকু এই জায়গায়? কিংবা ডাকসু হলেই বা বর্তমান অবস্থায় কতটুকু কার্যকরী হবে আমার স্বার্থ রক্ষার্থে?
প্রথমেই বলে নেওয়া দরকার ডাকসু কী? ডাকসু হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম সংগঠন। যা শিক্ষার্থীবান্ধব সকল দাবি আদায়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ব্যাপারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। প্রয়োজনে অন্যায্য বা চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে দাবি আদায় করবে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অধিকার ক্ষুণ্ন্ন করে সংসদের পক্ষে অন্যায়-অন্যায্য বিষয়কে সমর্থন জানিয়ে কোটারি স্বার্থ হাসিল করা হবে এমন ডাকসু চাই না। প্রশ্ন হচ্ছে— শিক্ষার্থীদের করণীয় কী?
সচেতন শিক্ষার্থী ও ডাকসুর ভোটার হিসেবে সবার প্রথমেই প্রয়োজন আত্মসচেতনতা ও নিজের অধিকার আদায়ে দৃঢ় সংকল্প থাকা। এবং অধিকার আদায়ে তথা যোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ে সুচিন্তিত রায় দেওয়া। আর তার মোক্ষম অস্ত্র মূল্যবান ভোট।
এবার কথা হতে পারে কাকে ভোট দেবেন? ডাকসুতে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলসহ কোটা সংস্কার আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও আছেন। এদের মধ্য থেকে আপনি বুঝে-শুনে যাকে যোগ্য মনে হয় তাকেই ভোট দিন। আপনি আপনার প্রত্যেকটা ভোট একটি প্যানেলকেই দিতে হবে এমনটা নয়। বরং কোনো পদে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের প্রার্থীকে যোগ্য মনে হলে সেখানে তাকে ভোট দিন, কোনো পদে বিরোধী ছাত্র সংগঠনের প্রার্থীকে যোগ্য মনে হলে সেখানে তাকে ভোট দিন, কোনো পদে এদের কাউকেই পছন্দ না হলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের থেকে সবচেয়ে যোগ্য যিনি তাকে ভোট দিন।
সবশেষে আপনি ভোট দিন। আপনার অধিকার আদায়ের জন্য ভোট দিন। ডাকসুকে অকার্যকর সংগঠনে পরিণত হতে না দিয়ে বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের অস্ত্র হিসেবে এর পুরান গৌরব পুনরুদ্ধার করুন। আপনার সচেতন একটি ভোটের মাধ্যমেই আপনার পছন্দের ডাকসু গড়ে তুলুন। অংশ হোন একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থী,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ইত্তেফাক/আরকেজি
