কদমতলীতে বাসায় ঢুকে মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা ও মাকে জখমের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি রাব্বিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ‘মটু’ বলায় ক্ষোভে রাব্বি এ নৃশংস ঘটনা ঘটায় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। সোমবার সকালে কদমতলীর মুরাদনগর থেকে সোমবার সকালে কদমতলী থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, রাব্বি ওই হত্যা মামলার মূল আসামি। তার সঙ্গে আরেক সহযোগী ছিল, কিন্তু সে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়নি। তবে তাকেও আটকের চেষ্টা চলছে।
রাব্বিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বী জানায়, পাটেরবাগের ২ নম্বর গলিতে সে তার বাবা-মাসহ থাকে। তাদের বাড়ির পাশে ১৪৯২ নম্বর বাড়ির দোতালায় ইটালী প্রবাসী আব্দুল হান্নান সপরিবারে ভাড়া থাকেন। সোহেলী আক্তার আব্দুল হান্নানের বড় মেয়ে। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় সোহেলীর সঙ্গে তার প্রায় কথাবার্তা হতো। সে একটি বিদেশি কুকুর পুষত। তার শরীর একটু মোটা বলে সোহেলী তাকে প্রায়ই ‘মটু’ বলে খ্যাপাত। বহুবার তাকে নিষেধ করেছিল যে এই নামে যেন না ডাকে। এ জন্য সে শায়েস্তা করতে তার বন্ধুকে সাথে নিয়ে ৩ নভেম্বর সোহেলীদের ফ্ল্যাটে ঢুকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় বাসার সামনে বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলী জালাল আহমেদ তাকে বাধা দিলে সে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে আহত করে তাকে।
প্রসঙ্গত, ৩ নভেম্বর কদমতলীতে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মেয়ে সোহেলী আক্তার (১৪) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। মা শাহিদা মৃধা ডলি (৩৫) ও ছোট মেয়ে সারা আক্তার (৭) ও প্রতিবেশী জালাল আহমেদ গুরুতর জখম হয়।
কদমতলী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন মা ও মেয়ের সঙ্গে কথা বলে হামলাকারী কারা সে ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যায়। ঘটনার পরপরই রাব্বী আত্মগোপন করে। সোমবার কদমতলীর মুরাদনগরে তার এক আত্মীয়র বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
