স্মার্টফোন, ট্যাবে ‘নাইট মোড’ সংযুক্তির দাবি বিশেষজ্ঞের

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৫, ০২:৩২

স্মার্টফোন, ট্যাবলেট পিসি বা ই-বুক রিডারের মতো সব গ্যাজেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে এসব ডিভাইসের ডিসপ্লে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্টের উপযুক্ত প্রদর্শনের জন্য হয়ে উঠছে আরও উন্নত। কিন্তু এই উন্নত ধরনের ডিসপ্লে মানুষের স্বাভাবিক ঘুমের অভ্যাসকে ব্যাহত করছে। আধুনিক সব প্রযুক্তি পণ্যে তাই রাতের ঘুমের সময়ের জন্য বিশেষায়িত ও স্বয়ংক্রিয় ‘নাইট মোড’ থাকা জরুরি হয়ে পড়েছে। এমন দাবিই জানিয়েছেন শিশুদের ঘুম ও স্নায়বিক দৌর্বল্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ পল গ্রিনগ্র্যাস।

লন্ডনের ইভিলিনা চিলড্রেনস হসপিটাল ও কিংস কলেজ লন্ডনের এই বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তার সহকর্মীদের নিয়ে সম্প্রতি পরিচালনা করা এক গবেষণার ফলাফলের প্রেক্ষিতেই এই দাবি জানিয়েছেন। গবেষণায় অধ্যাপক গ্রিনগ্র্যাস ও তার দল স্মার্টফোন, ট্যাবলেট পিসি ও ই-বুক রিডারের ডিসপ্লের ধরনের সাথে ঘুমের সম্পর্ক পেয়েছেন।

গবেষণায় বলা হয়েছে, সাধারণভাবে মানুষের ঘুমের অভ্যাস নির্ভর করে দিন ও রাতের মধ্যে এক ধরনের সমন্বয়ের মাধ্যমে। দিনের আলো কমার সাথে সাথে মেলাটোনিনের পরিমাণ বাড়তে থাকে, যা মানুষের ঘুমের জন্য সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। তবে আধুনিক সব গ্যাজেটের ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা অনেক বেশি থাকে এবং এসব ডিসপ্লে থেকে এক ধরনের নীলাভ আলো নিঃসরিত হয়। এই আলো শরীরের হরমোনকে উদ্দীপ্ত করে এবং মানুষকে অনেক বেশি সজাগ করে রাখে। ফলে বিছানায় স্মার্টফোন, ট্যাবলেট পিসি বা ই-বুক রিডারের মতো ডিভাইস ব্যবহার করতে থাকলে তা মানুষকে সজাগ রাখার মাধ্যমে ঘুমের তাড়না কমিয়ে দেয়।

গবেষকরা তাদের গবেষণায় এসব ডিভাইসের সাথে ঘুমের কার্যকারিতা বুঝার জন্য দুইটি ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষা চালান। এর মধ্যে একটিতে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের কমলা রঙের একটি চশমা ব্যবহার করতে দেওয়া হয় এবং অন্যটিতে রাতের বেলা ডিসপ্লের নীলাভ আলো বিচ্ছুরণ রোধে বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করা হয়।

দুইটি পরীক্ষাতেই ব্যবহারকারীদের ঘুমের অভ্যাস উন্নততর ছিল। কিন্তু বিছানায় চশমার ব্যবহার অস্বাভাবিক বলে প্রযুক্তি পণ্যের ডিসপ্লেতে বিশেষ ফিল্টার ব্যবহারের পক্ষেই মত দিয়েছেন গবেষকরা। সেক্ষেত্রে প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতাদের প্রতিই তারা আহ্বান জানিয়েছেন যাতে করে তারা বিল্ট-ইন হিসেবেই তাদের নির্মিত পণ্যে ‘নাইট মোড’ নামে বিশেষ ফিল্টার যুক্ত করে।