দেশের রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুরোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনার জন্য সরকারকে পরামর্শ দিয়ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়ানোরও তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঢাকা সফররত আইইএমএফ মিশন প্রধান রডরিগো কুবেরো সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে ব্যাংকগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হতে হবে।
এ ছাড়া, বোর্ডর দায়বদ্ধতা বাড়ানোসহ ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ অর্জিত হতে পারে। তবে বাজেটের লক্ষ্য অনুযায়ী ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে বলে মনে করে আইএমএফ।
সংস্থাটির এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপপ্রধান রদ্রিগো কুবেরোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১২ দিনের সফর শেষে ঢাকা ছাড়ার প্রাক্কালে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এর আগে প্রতিনিধি দলটি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। এটা কমিয়ে আনতে হবে। এ ছাড়া, অনিয়ম-দুর্নীতি কমিয়ে এ খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে আরো মনোযোগী হতে হবে। ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হতে হবে। এছাড়া পরিচালনা বোর্ডের দায়বদ্ধতা বাড়াতে হবে। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করে সংস্থাটি।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২০১৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এ আইন বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমি মনে করি, এতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।
রদ্রিগো তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের পরিবহন, অবকাঠামো আর গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটই বিনিয়োগের প্রধান বাধা। ফলে সরকারি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান করতে হবে। অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ তেমন একটা প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয় না। তবে এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে। এ বিষয়ে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলো প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
১২ দিনের ঢাকা সফরে প্রতিনিধি দলটি অর্থমন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ব্যবসায়ী ও ব্যাংকার, শ্রম সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে। এছাড়া বর্ধিত ঋণ সুুবিধার (ইসিএফ) সর্বশেষ দুই কিস্তির অর্থ ছাড়ের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক করে প্রতিনিধি দলটি। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফ’র ঢাকা প্রধান স্টেলা কেন্দারিয়া উপস্থিত ছিলেন।
