ওশেনিয়া/অস্ট্রেলেশিয়া অঞ্চলের কার্সটেসন পিরামিড পর্বত শৃঙ্গ জয়ের মধ্যদিয়ে সম্প্রতি বিশ্বের সাতটি দেশের সর্বোচ্চ সাতটি শৃঙ্গ জয়ের অভিযান শেষ করেছেন পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরীন। আর এভাবেই তিনি বাংলাদেশ অন সেভেন সামিট কর্মসূচির ইতি টানেন। এই কার্সটেসন পিরামিড পর্বত শৃঙ্গ জয় ওয়াসফিয়ার জন্য সহজ ছিল না। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এই শৃঙ্গ জয় করতে গিয়ে তার ভয়ঙ্কর সব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বিবিসিকে ওয়াসফিয়া বলেন, ফিরে আসতে পারবেন তা কল্পনাও করিনি।
বিবিসিকে তিনি বলেন, কার্সটেসন পিরামিড পর্বত জয়ের পর বেসক্যাম্পে পৌঁছানোর পথে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর সঙ্গে দেখা হয় তার। এদের মধ্যে নানা ধরনের কুসংস্কার আছে, যা অন্যের ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে। এমন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।
ওয়াসফিয়া জানান, পর্বতারোহণ শেষে ফেরার পথে একটি গ্রামে এক বৃদ্ধ মারা যান। সে জন্য দায়ী করা হয় তাকে ও তার সহযোগীদের। কারণ গ্রামের লোকজন বিশ্বাস করে বিদেশিদের আগমণের কারণেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ কারণে তাদের আটক করে গ্রামবাসী। চার ঘণ্টা সালিশ চলে তাদের নিয়ে। সালিশে তাদের চার হাজার ডলার জরিমানা ধরা হয়। তা পরিশোধ করেই সেখান থেকে মুক্তি পান তারা।
ওয়াসফিয়া বলেন, ১৬ হাজার ২৪ ফুট উচ্চতার কার্সটেসন পিরামিডের স্থানীয় নাম পুনাক জায়া। যা আরোহণও ততটা সহজ নয়। গ্রানাইট পাথরের এই পাহাড়ের একটি চূড়া থেকে অন্য চূড়ায় দড়ির ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। ২২০ কিলোমিটার পথ হেঁটে এই পর্বতের বেসক্যাম্পে পৌঁছান তিনি। যা পার হতে তাদের গ্রামের পর গ্রাম হাঁটতে হয়। এই পর্বতের আরো বিপদ হল পর্বতের এক দিকের সোনার খনি। সোনার খনির জন্যই সেখানে মার্কিন ও অস্ট্রেলিয়ান মাফিয়াদের আনাগোনা। আবার অন্যদিকে স্থানীয় বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে তীর-ধনুকের মারামারিও বিদ্যমান। ওয়াসফিয়া বলেন, তাই সব মিলিয়ে কার্সটেসন পিরামিড পর্বত শৃঙ্গই তার জীবনে সবচেয়ে কঠিন ও দুর্গম পাহাড়, এভারেস্টের চেয়েও।
