রবি-এয়ারটেল এক হওয়ার আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের রুল

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৫, ২০:৪৯
প্রতিযোগিতা কমিশন গঠন করে বাজার মূল্যায়নের ভিত্তিতে বেসরকারি মোবাইল অপারেটর রবি ও এয়ারটেলের একীভূত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে  কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে  চেয়ে রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত। এ বিষয়ে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি ফরিদ আহমদ শিবলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ  রিববার এ আদেশ  দেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইউসুফ আলী। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন  ডেপুটি অ্যাটর্নি  জেনারেল আমাতুল করীম। বাণিজ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা (কমপিটিশিন) কমিশনের সচিব,  টেলিকম সচিব, রবি ও এয়ারটেল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদেরকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নাজমুস সাকিব আল আযম নামের এক এয়ারটেল গ্রাহক এ রিট আবেদন করেন। পরে আদালত  থেকে  বেরিয়ে আইনজীবী ইউসুফ আলী সাংবাদিকদের বলেন, রবি ও এয়ারটেল মোবাইল কোম্পানির একীভূত হওয়ার বিষয়টি সরকার অনুমোদন করলে বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের মার্কেট শেয়ারের ৯৬ শতাংশ চলে যাবে তিনটি  কোম্পানির হাতে। এতে করে এ খাতে নতুন করে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন, প্রতিযোগিতা না থাকলে গ্রাহকরাও বঞ্চিত হবেন।
ব্যবসার সুস্থ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির জন্য ২০১২ সালের জুনে সরকার প্রতিযোগিতা আইন করে, যাতে প্রতিযোগিতা কমিশন গঠনের কথা বলা হয়। সে কমিশনের সচিব নিয়োগ দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কমিশনের  চেয়ারম্যান নিয়োগ  দেয়নি সরকার।
ব্যবসা একীভূত করার অনুমতি চেয়ে গত  সেপ্টেম্বরে বিটিআরসিতে চিঠি  দেয় রবি ও এয়ারটেল। ওই চিঠিতে বলা হয়, একীভূত হওয়ার পর ৭৫ শতাংশ শেয়ার থাকবে মালয়েশিয়াভিত্তিক আজিয়াটা গ্রুপ ও এনটিটি ডকোমার কাছে; বাকি ২৫ শতাংশ শেয়ার থাকবে ভারতি এয়ারটেলের কাছে।
এতে বলা হয়, দুই অপারেটর একীভূত হওয়ার পর যৌথ গ্রাহকদের কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না। এয়ারটেলের গ্রাহকদের নম্বর (০১৬ দিয়ে শুরু) অপরিবর্তিত থাকবে। তবে তিন বছর পর  থেকে ০১৬ দিয়ে নতুন সংযোগ দেওয়া হবে না বলে বিটিআরসিতে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়। ওই চিঠি পাওয়ার পর দুই কোম্পানির একীভূত হওয়ার প্রভাব বিশ্লেষণে সমীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয় বিটিআরসি।
একীভূত হওয়ার আর্থ-সামাজিক প্রভাব বিশ্লেষণ, কোনো প্রকার বিরূপ প্রভাব থাকলে তা  থেকে উত্তরণের পদ্ধতি ও কৌশল নির্ধারণ, একীভূত হওয়ার কারণে কর্মসংস্থানের উপর ডভাব, বিশেষ করে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি সঙ্কোচন বা সম্প্রসারণের সম্ভবনা এবং একীভূত  কোম্পানিতে যোগদানে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য  স্বেচ্ছা অবসর স্কিমের (ভিআরএস) মতো বিষয় ওই সমীক্ষায় থাকবে বলে গত ২৩ নভেম্বর বিটিআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
রবির মালিকানা মালয়েশিয়াভিত্তিক আজিয়াটা গ্রুপের। অন্যদিকে এয়ারটেলের মালিক ভারতের ভারতি এয়ারটেল। তারা বাংলাদেশে ওয়ারিদের ব্যবসা কিনে নিয়েছিল।
এশিয়ার বড় টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিগুলোর মধ্যে আজিয়াটা অন্যতম। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশের পাশাপাশি ক্যাম্বোডিয়া, ভারত ও সিঙ্গাপুরেও তাদের ব্যবসা রয়েছে।
দেশজুড়ে ৮ হাজার ১১৯টি সাইটের মাধ্যমে  টেলিযোগাযোগ সেবা দিচ্ছে রবি, যাদের গ্রাহক সংখ্যা অক্টোবরের হিসেবে ২ কোটি ৮২ লাখ।
বাংলাদেশে ভারতি এয়ারটেলের বিনিয়োগ শুরু হয় ২০১০ সালে। তখন ওয়ারিদ  টেলিকমের ৭০ শতাংশ শেয়ার কিনেছিল তারা। তিন বছর পর ওয়ারিদের কাছে থাকা বাকি ৩০ শতাংশ শেয়ারও কিনে নেয় সিঙ্গাপুরে ভারতী এয়ারটেলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ভারতী এয়ারটেল হোল্ডিংস লিমিটেড। বাংলাদেশে ব্যবসা বাড়াতে তারা আশাবাদী হলেও  শেষ পর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি। ৯৯ লাখ গ্রাহক নিয়ে বর্তমানে ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরের মধ্যে এয়ারটেল বাংলাদেশে চতুর্থ। ফোকাস বাংলা