৩শ বছর আগে ডুবে যাওয়া স্প্যানিশ জাহাজের খোঁজ!

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৯:২৪
তিনশ বছরেরও বেশি সময় আগে ক্যারিবিয়ান সাগরে ডুবে যাওয়া স্প্যানিশ জাহাজের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছে কলম্বিয়া। স্যান হোসে নামের ওই প্রাচীন জাহাজটি উদ্ধারের ফলে শতশত বছরের পুরনো রহস্যের জটও এবার উদঘাটিত হতে যাচ্ছে।
 
একটি ব্রিটিশ জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যাওয়ার সময় এতে বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপা ও পান্নাসহ বিভিন্ন মূল্যবান পাথর বোঝাই করা ছিল। তাইতো গত কয়েক দশক ধরেই একে সাগরের বুক থেকে তুলে আনার চেষ্টা চলছিল। একে নিয়ে গবেষণাও কম হয়নি। শেষমেষ দেখা মিলল আকাঙ্খিত সেই জলযানের।
 
এ সম্পর্কে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েলে স্যান্টোস শনিবার বলেছেন, মানব সভ্যতার ইতিহাসে যেসব মূল্যবান ধনরত্ন উদ্ধার করা হয়েছে এই জাহাজটি তার অন্যতম। তিনি আরো জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞরা গত ২৭ নভেম্বর ক্যারিবিয়ানের এমন এক অংশে স্যান হোসের খোঁজ পেয়েছেন, এর আগে যেখানে কেউ সন্ধান চালায়নি।
 
১৭০৮ সালের জুন মাসে এই স্প্যানিশ জাহাজটি কলম্বিয়ার ক্যারিবিয় উপকূল আইসলাস ডেল রোসারিওর কাছে  ডুবে যায়। বন্দরে মাল নামানোর সময় ব্রিটিশ জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এর সলিল সমাধি হয়েছিল।
 
স্পেনের রাজা পঞ্চম ফিলিপের নৌবহরের অংশ ছিল স্যান হোসে। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে লুট করা ধনসম্পদ নিয়ে স্পেনে ফেরার পথেই ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। ডুবে যাওয়ার সময় এতে ৬শয়ের মত নাবিক ছিল। তাদের গুটিকয়েক কেবল বেঁচে গিয়েছিলন।
 
কলম্বিয়ার উদ্ধারকারী টিম এবং বিদেশি গবেষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গত মাসেই জাহাজটির খোঁজ পাওয়া যায়। ওই গবেষকদের দলে ১৯৮৫ সালে ঐতিহাসিক জাহাজ টাইটানিক উদ্ধারে অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজনও রয়েছেন। দলটি ৩০৭ বছর আগের ক্যারিবিয়ান সাগরের বাতাস আর স্রোতের ওপর গবেষণা করার পর জাহাজের অবস্থানস্থল সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
 
IMG0
তারা জাহাজটির ওপর নির্দিষ্ট তথ্য ও সূত্র খুঁজে পেতে স্পেন ও কলম্বিয়ার বিভিন্ন সংগ্রহশালায় বছরের পর বছর ধরে কাজ করে গেছেন। সমুদ্রের তলদেশ থেকে কমপক্ষে আরো পাঁচটি ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন বলেও তারা আশা করছেন।
 
এর আগে মার্কিন কোম্পানি সি সার্চ আর্মাডা ওই মূল্যবান জাহাজের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছিল। কিন্তু পরে তাদের সে দাবি ভূয়া প্রমাণিত হয়।
 
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ এই ডুবে যাওয়া জাহাজটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ বলে বর্ণনা করেছে। সূত্র: ডেইলি মেইল