ফ্রান্সে অভিবাসীবিরোধীদের ঐতিহাসিক জয়

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ২০:০২
 
প্যারিসে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ফ্রান্সের স্থানীয় নির্বাচনের প্রথম রাউন্ডে মারিন ল্যু পেন-এর উগ্র ডানপন্থী দল ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এনএফ) জয়লাভ করেছে। হামলায় ১৩০ জন নিহত হওয়ার এক মাসের মধ্যেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো দেশটিতে।
 
সম্প্রতি প্যারিস হামলার ঘটনা অভিবাসনবিরোধীদের জয়ে ভূমিকা রাখছে বলে দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
 
স্থানীয় এ নির্বাচনের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এনএফ পেয়েছেন শতকরা ২৯ দশমিক ৪৯ ভাগ ভোট, সাবেক রাষ্ট্রপতি নিকোলাস সারকোজির মধ্য ডানপন্থী দল রিপাবলিকান পেয়েছেন ২৬ দশমিক ৬১ ভাগ ভোট আর ক্ষমতাসীন ফ্রঁসোয়া ওঁলাদের বামপন্থী দল পেয়েছে ২৩ দশমিক ০৩ শতাংশ ভোট।
 
এনএফ ফ্রান্সের ১৩টি মেট্রোপলিটন অঞ্চলের মধ্যে ৬টিতে জয়ী হয়েছে। মারিন ল্যু পেন নিজে দেশটির উত্তরে পাহ দো কালে পিকার্দি অঞ্চলে ও তার ভাই ঝি মারিয়েন মার্সেল ল্যু পে দক্ষিনের আল্পস কোত দ জ্যুঁ অঞ্চলে এগিয়ে রয়েছেন।
 
এদিকে  ফ্রঁসোয়া ওঁলাদের ক্ষমতাসীন সমাজবাদী দল আগামী ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পর্বের ভোটে উত্তর দক্ষিণের দুটি অঞ্চলে পরাজয় স্বীকার করে ভোট করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে পার্টি প্রধান জন ক্রিস্টপ কাম্বেদালি।
 
আঞ্চলিক নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থী দলের বিরাট এ বিজয়ে ফ্রান্সের অভিবাসী ও উদারপন্থীদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এনএফ এর এই বিজয় ২০১৭ সালের ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।
 
এনএফের এই বিজয়ে শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন দেশটিতে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন’র মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ্‌ নির্বাচনের ফলাফলে হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘ ফ্রান্সের মতো একটি বহু ভাষাভাষী দেশে উগ্র অভিবাসনবিরোধীদের জয় আমাদের অভিবাসীদের জন্য এক অশনি সংকেত’। ‘তবে শেষ পর্যন্ত ন্যাশনাল ফ্রন্টের বিজয় ঠেকাতে সব বামপন্থী, মধ্য বামপন্থী ও মধ্য ডানপন্থীরা একত্রিত হয়ে জোট করার সম্ভাবনাও রয়েছে’- যোগ করেন তিনি।