কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে ৭০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) এবং সিঙ্গাপুরের কোম্পানি সেম্বকরূপ ইউটিলিটিজ প্রাইভেট লিমিটেড যৌথভাবে এ কেন্দ্র নির্মাণ করবে। পরবর্তীতে ঐ কেন্দ্রের ক্ষমতা আরো ৭০০ মেগাওয়াট বাড়িয়ে এক হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা যাবে।
বুধবার রাজধানীতে বিদ্যুৎ ভবনে এক অনুষ্ঠানে সিপিজিসিবিএল এবং সেম্বকরূপের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে সিপিজিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কাশেম এবং সেম্বকরুপ গ্রুপের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ট্যাং কিন ফাই স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, টেকসই ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনকে বাংলাদেশ বেশী গুরুত্ব দিচ্ছে। এই মুহূর্তে কয়লাভিত্তিক ১০হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াধীন। ভুটানে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে জলবিদ্যুৎ আমদানি করার বিষয়টিও প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মাতারবাড়িতে কয়লাভিত্তিক ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটি কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ এবং সেম্বকরুপ সমান ৫০ শতাংশ অর্থায়ন ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করবে। আগামী বছর এটি নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২২ সালে। আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে নির্মিতব্য কেন্দ্রটির বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হবে আমদানিকৃত কয়লা থেকে।
গত ১৫ এপ্রিল সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশের মধ্যে জি-টু-জি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এতে বাংলাদেশে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র পরিচালনা, উন্নয়ন, অর্থায়ন, নির্মাণ, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সেম্বকর্্প’র সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। কোন টেন্ডারে অংশগ্রহণ ছাড়াই যৌথ অংশীদারিত্বে বিদ্যুেকন্দ্রটি নির্মাণ করবে সেমকর্্প।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে মাতারবাড়িতে ১২০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক একটি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সিপিজিসিবিএল। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
