কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স জিতেছে। বিরাট ব্যবধানে জিতে গ্রুপপর্বের সেরা দল হওয়া নিশ্চিত করেছে। এমন সময় দলটির অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার শুধুই উচ্ছ্বসিত থাকার কথা। কিন্তু তারপরও মাশরাফির কপালে চিন্তার ভাঁজ।
এই চিন্তাটা নিজের ইনজুরি বা কুমিল্লা দলের কোনো কিছু নিয়ে নয়; জাতীয় দলের সতীর্থদের নিয়ে।
যদিও বলছেন, জাতীয় দলের সতীর্থদের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। তার মনে হয়, বিপিএলে রান করতে না পারলেও জাতীয় দলের পারিবারিক আবহে ফিরলে সবাই আবার নিজেদের ফিরে পাবেন। কিন্তু মুখের এই কথাই যে সব নয়, তার প্রমাণ হিসেবেই বিপিএল চলাকালেও অন্যান্য দলে খেলতে থাকা সৌম্য-সাব্বিরদের সাথে আলাদা আলাদা করে পারফরম্যান্স নিয়ে আলাপ করছেন অধিনায়ক।
বিপিএলজুড়ে সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান রুম্মন, নাসির হোসেন, লিটন দাশের মতো জাতীয় দলের তারকাদের ব্যর্থতা নিয়ে ভয়ানক চিন্তিত নন বলেই দাবি করছেন মাশরাফি। তার মনে হয়, জাতীয় দলের সামনে যে ইভেন্টগুলো আছে, সেখানে উইকেটই আসলে এদের আসল চেহারাটা বের করে আনবে, ‘একটি ইনিংস প্রয়োজন হয় ব্যাটসম্যানকে জায়গা ফিরে পেতে। আমার মনে হয় যেসব টুর্নামেন্ট হবে ওইগুলো এর চেয়ে ভালো উইকেটে হবে। কেননা উইকেট বিশ্রাম পাবে। ওই সময় ব্যাটসম্যান এখনকার মতো এত স্ট্রাগল করবে না। সেই সঙ্গে এটা আসলে নির্ভর করে সুর্নিদিষ্ট ওই খেলোয়াড় মানসিকভাবে কী অবস্থায় আছে তার ওপর। অনেক চিন্তা করে জাতীয় দলে আমি ভালো শেষ করেছি। এটা আসলে কোনো বিষয় না। তারপরও যে যেখানে খেলে সে চায় ওখানে পারফরম্যান্স করতে। কিছুটা সতর্ক অবশ্যই খেলোয়াড়রা থাকবে। আমার বিশ্বাস সবাই এখান থেকে ওভারকাম করতে পারবে।’
এ ছাড়া মাশরাফি বিশ্বাস করেন, জাতীয় দলের পারিবারিক আবহও এই ব্যাটসম্যানদের সেরাটা ফিরিয়ে আনতে পারবে, ‘আমার কাছে মনে হয় আমরা সবাই যখন এক সঙ্গে হবো। সবাই আমরা খারাপ সময় ভালো সময় সব সময় এক সঙ্গেই থাকে। অনেক দিনের গ্যাপে সবাই সবাইকে ছেড়ে আছে। আবার যখন আমাদের পরিবারে আমরা এক সঙ্গে হবো সেই আত্মবিশ্বাসটা ফিরে আসবে। সেই পুরনো কথাগুলো যখন কানের কাছে হবে তখন ওরা আবার রিলাক্স হবে।’
তবে মুখে যা-ই বলুন, শেষ অব্দি মাশরাফি স্বীকার না করে পারলেন না যে, এদের নিয়ে তিনি চিন্তিত। সেই চিন্তা নিয়ে ইতোমধ্যে তিনি এই তরুণদের সাথে কথাও বলেছেন, ‘আমি অনেকের সঙ্গেই কথা বলেছি এই নিয়ে। আমি সৌম্যর সঙ্গে, রুম্মনের সঙ্গে কথা বলেছি। লিটন তো আমার দলেই আছে। ইমরুল আছে। মুশফিক অনেক ভালো বোঝে। অনেক অভিজ্ঞ। সবার সঙ্গেই কথা বলেছি। অবশ্যই আমি চাই ওরা রান করুক। ওদের মাথায়ও এটা আছে। এই টুর্নামেন্ট থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসতে পারত। কিন্তু যেটা চোখে দেখা যাচ্ছে হয়তো হয়নি। আমার বিশ্বাস...। বাংলাদেশ দলের কোচও বেশিরভাগ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেছে। সে দেশে যাওয়ার আগে। আমার বিশ্বাস আবার আমরা যখন আমাদের চেনা ড্রেসিংরুমে ফিরে আসব সব ঠিক হয়ে যাবে। এর পরও পারফরম্যান্স ওঠা-নামা করে।’
জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি যে কেবল কুমিল্লাকে নিয়ে ভাবতে পারছেন না, সেটা নিজেই স্বীকার করলেন। ফলে বিপিএলে নিজের দলের খেলা দেখার পাশাপাশি চোখ রাখতে হয়েছিল তরুণ প্রতিভার দিকেও। সেখানেও কিছু অন্তত আশার জায়গা পেয়েছেন, ‘বিশ্বকাপ আর এশিয়া কাপ তো খুব কাছে। এটা আসলে নির্ভর করছে নির্বাচকদের ওপর। বাংলোদেশের কোচ ও নির্বাচকরা খেলা ফলো করছে। এখানে আসলে আমার কোনো ভূমিকা নেই। খালি চোখে যাদের ভালো লাগে। রনি ভালো বোলিং করেছে। সোহান ভালো খেলেছে। হয়তো শুরুটা ভালো হয়নি। এগুলো সব নির্ভর করছে নির্বাচকদের ওপর।’
