যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পর এবার যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সফররত একজন কেন্দ্রীয় নেতার সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে এই কোন্দলের সূত্রপাত। আর এই কোন্দলের জের ধরে স্থানীয় সময় রবিবার রাতে নিউইয়র্কে এক পক্ষ প্রতিপক্ষের সভায় ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে ওই সভা পণ্ড হয়ে যায়। উল্লেখ্য, বিগত কিছুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের কোন্দলে সৃষ্ট বিরোধে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে। আওয়ামী লীগের এই সঙ্কট কাটতে না কাটতেই কোন্দল দেখা দিল যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে।
একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বড় একটি অংশের অভিযোগ, দলের হাইকমান্ডের দোহাই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশ কাটিয়ে এহাছানুল হক মিলন নিজের ইচ্ছামত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিএনপির ক্ষুদ্র একটি অংশ মিলনের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে। এই অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শরাফত হোসেন বাবু, সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসিম ভুইয়া এবং স্টেট বিএনপির সভাপতি মাওলানা অলিউল্যাহ আতিকুর রহমান।
সূত্র জানায়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের এই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাও রয়েছেন। এহছানুল হক মিলন এরই মধ্যে ইলিনয় ও মিশিগান স্টেটে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে গিয়ে বাধার মুখে ফিরে আসেন।
এহছানুল হক মিলনের কমিটি গঠনের এই প্রক্রিয়াকে মেনে নিতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মী। তারা এই প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার রাতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে কর্মী সমাবেশের আয়োজন করে। কর্মী সমাবেশে নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট, প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদার, সাবেক সহ-সভাপতি গিয়াস আহমেদ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান। শতাধিক নেতা-কর্মী ওই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এই কর্মী সমাবেশের অদূরেই পৃথক সভা আহ্বান করেন শরাফত বাবু ও জসিম ভূঁইয়া। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ পাশের কর্মী সমাবেশের নেতা-কর্মীরা শরাফত বাবু ও জসিম ভূঁইয়ার আহ্বান করা সমাবেশে গিয়ে হইচই করে। শুরু হয় ব্যাপক হট্টগোল। এক পর্যায়ে শরাফত বাবুর সভা পণ্ড হয়ে যায়। পরে সেখানে এক সমাবেশে সাবেক সভাপতি লতিফ সম্রাট ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এখন ঐক্যবদ্ধ। তাই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে কাউকে পৃথক সভা করতে দেয়া হবে না। কেন্দ্রীয় কোনো নেতা সভা করতে চাইলেও তাকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তিনি।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিলন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করে দেশে ফিরে তিনি বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপি সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে এখনো তার বেশকিছু অনুসারী রয়েছেন।
