খেলার টানে বাড়ি ছাড়া

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৫, ০৮:৫১
খেলার নেশায় আসক্ত তারা। শুধু খেলার কথা বললে ভুল হবে! বলতে দলে প্রিয় দলের টানেই বাড়ি ছাড়া। কুমিল্লার নাথের পেটুয়া থেকে দলকে সমর্থন যোগাতেই মাঠে এসেছেন চার যুুবক। বাতাচৌ গ্রামের বড় বাড়ির ছেলে তারা। মূলত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের টানেই সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে মাঠে এসেছেন। 
 
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) গ্যালারিতে বসে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে সমর্থন যুগিয়েছেন তারেক আজিজ, খোরশেদ আলম, বাবুল, আরিফ ও রায়হানরা। শুধু যে কুমিল্লারই দর্শকরা এসেছিলেন তা নয়। বরিশাল বুলসেরও এমন একনিষ্ঠ দর্শকরা ছিলেন। আর দু’দলে মিলে পাল্লা দিয়ে ভরিয়ে তুললেন গ্যালারি।
 
গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নর্দান গ্যালারির এক পাশে, ছোট একটি ব্যানার হাতে নিয়ে বসে উল্লাস করছিলেন কলেজ পড়ুয়া কুমিল্লা থেকে আসা এই যুবকরা। কুমিল্লা ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তারেক আজিজ বলেন, ক্রিকেট খেলা এমনিতেই আমার পছন্দের। খেলা হলে মাঠে ছুটে আসতে মন চায়। কিন্তু বেশির ভাগ খেলা ঢাকা এবং চট্টগ্রামে হয়। এতদূর গিয়ে খেলা দেখা সম্ভব না। বিপিএলে আমাদের কুমিল্লার দল থাকায় খেলা দেখার জন্য আজ কুমিল্লা থেকে এসেছি। এর আগে চট্টগ্রামে খেলা দেখতে গিয়েছি।
 
অনেক দূর থেকে খেলা দেখতে আসলেও টিকেটের জন্য তাদের গুণতে হয়েছে বাড়তি টাকা। এমনটি জানিয়ে খোরশেদ আলম বলেন, ‘৪০০ টাকার টিকেট ৮০০ টাকা দিয়ে কিনছি। এর আগে চট্টগ্রামের খেলার সময় ১০০ টাকার টিকেট, ২৫০ টাকা দিয়ে কিনে খেলা দেখেছি। কাউন্টার থেকে টিকেট কিনতে পারলে ভালো হতো, তাহলে আমাদের আর বাড়তি টাকা খরচ করতে হতো না।’
 
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র কাছে তাদের আবেদন, পরবর্তীতে জাতীয় দলের না হোক, অন্তত বিপিএলের কয়েকটি ম্যাচ হলেও যেন কুমিল্লাতে দেয়া হয়, ‘আমাদের কুমিল্লায় কোন খেলা দেয়া হয় না। ওখানের স্টেডিয়ামে দুই একটি ম্যাচ খেলানো হলেও ভালো হতো। আমরা যেমন অনেক দূর পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছি। টাকা থাকা সত্ত্বেও অনেকের পক্ষে এটা করা সম্ভব না।’
 
বিপিএলের ফাইনালে মিরপুর শেরেবাংলার গ্যালারি টইটুম্বর ছিল। গ্যালারির কোথায়ও তিল পরিমাণ ফাঁকা জায়গা ছিল না। সিট না পেয়ে, অনেকে টিকেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেছেন, প্রিয় দলের জন্য বুক ফাঁটিয়েছেন। আবার তাদের মধ্যে এমনও অনেকে ছিলেন, যারা আক্ষরির অর্থে কোন  দলের টানে মাঠে আসেননি। ছেয়ে-মেয়েদের আবদার মেটাতে মাঠে এসেছেন। তাদেরই একজন ভোলা জেলার নজরুল ইসলাম। কর্মের তাগিদে ঢাকার মোহাম্মদ পুরে বসবাস তার। ছেলে তারিকুল ইসলাম শুভ, বাবার কাছে অনেক আগ থেকেই বায়না ধরেছেন, পরীক্ষা শেষ হলে তাকে যেন ক্রিকেট মাঠে নিয়ে আসা হয়। ছেলের আবদার মেটাতে মাঠে আসা। এমনটি জানিয়ে নজরুল বলেন, আসলে কাজের ব্যস্ততার কারণে খেলা দেখা হয় না। ছেলে পরীক্ষার আগে বায়না ধরেছে, তার পরীক্ষা শেষ হয়ে যেন মাঠে নিয়ে আসি। তাই চলে এলাম।
 
খানিকটা আক্ষেপের সুরে নজরুল বলেন, কাউন্টার থেকে টিকেট না পেয়ে ব্ল্যাকে টিকেট কিনেছি। ৪০০ টাকার টিকেট ১৬০০ টাকায় কিনেছে। ভালো ভাবে মনিটরিং করলে ন্যায্য দামে এবং সহজে টিকেট কিনতে পারতাম।