ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার ফোরাম (আইএলআরএফ) তার এক গবেষণা পত্র উপস্থাপন কালে জানিয়েছে, শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য শুধু কারখানা ভবন নিরাপদ হলেই চলবে না। সেই সঙ্গে কারখানার ভেতরে হুমকি ও সহিংসতার বিষয়গুলোর দিকেও নজর দিতে হবে।
কর্মপরিবেশের সংস্কারের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে শ্রমিকদের প্রতি 'সম্মান' প্রদর্শনের চর্চা প্রবর্তনের উপর জোর দিয়ে বলা হয়, 'তা না হলে শ্রমিকদের জীবন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখেই থাকবে।'
৭০ জনের বেশি শ্রমিকের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মস্থলে নিজেদের কথা বলার সুযোগ না পেলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। এতে বলা হয়, শ্রমিকরা কারখানা ও পোশাক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিরাজমান 'হুমকি ও সহিংসতার সামাজিক সম্পর্কের ভয়ানক চক্র' ভাঙ্গার উপর জোর দিয়েছে, যা তাদের পরিবার ও সমাজকে প্রভাবিত করে।
এই 'সামাজিক সম্পর্কের ভয়ানক চক্রের' কারণে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।আইএলআরএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, 'শ্রমিকরা বলছে, মূলত পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও তাদের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের বিবেচনার বিষয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।'
সাক্ষাৎকারে শ্রমিকরা জানিয়েছে, উৎপাদনের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা ও কাজের চাপের কারণে ব্যবস্থাপকরা তাদেরকে টয়লেটে যেতে, এমনকি পানি পানের বিরতি নিতেও বাধা দেয়। কখনও পরিবারে জরুরি চিকিৎসার বিষয় এলে তাদের ছুটি দেওয়া হয় না। আইএলআরএফের মতে, পোশাক খাতের ‘মারাত্মক মূল্য চাপ ও নিবিড় উৎপাদন সূচি'র প্রতিফলন এই কাজের চাপের কারণেই বাংলাদেশে কারখানাগুলোতে মৌলিক নিরাপত্তা পদক্ষেপগুলো অবহেলিতই থেকে যাচ্ছে। বিডি নিউজ।
