শিল্পনগরী খুলনার জুট মিল বা পাটকলগুলির অবস্থা কিছুদিন ধরে ভাল যাচ্ছে না। নানা সংকটে পড়ে ৩টি জুটমিল ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আরো কয়েকটি বন্ধের উপক্রম হয়েছে। তিন মিলের উত্পাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অন্তত ৮ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলে ব্যক্তি মালিকানাধীন পাটকল রয়েছে অন্তত ১৯টি। এর মধ্যে মহসেন জুটমিল ও এ্যাজাক্স জুটমিল ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। সোনালী পাটকলও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দুইদিন খোলা থাকে তো ৩ দিন বন্ধ থাকে। এ্যাজাক্স জুটমিলে স্থায়ী ১ হাজার ৬শ শ্রমিক-কর্মচারীর পাশাপাশি আরো প্রায় দেড় হাজার অস্থায়ী শ্রমিক রয়েছে। সোনালী জুটমিলে প্রায় ৩ হাজার স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীর সঙ্গে আরো অন্তত ২ হাজার অস্থায়ী শ্রমিক রয়েছে। কয়েক দফায় ৩৯০ দিন লে-অফ করে রাখার পর মহসেন জুটমিলটিও গত বছরের জুলাই মাসে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
মিলগুলি বন্ধের জন্য বেশ কয়েকটি কারণের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে মিলে উত্পাদিত পণ্য অবিক্রীত থাকা, উত্পাদন খরচের তুলনায় পণ্যের বিক্রি মূল্য কম, প্রয়োজনীয় ব্যাংক ঋণ না পাওয়া, সময়মত মিলে প্রয়োজনীয় কাঁচা পাট সংগ্রহ করতে না পারা, বিদ্যুত্ বিল বকেয়া থাকা, শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করতে না পারা উল্লেখযোগ্য।
গত ঈদুল ফিতরের আগে থেকে বন্ধ পাটকলগুলির শ্রমিক-কর্মচারীরা তাদের বকেয়া পাওনা এবং মিল চালুর দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। গত শনিবারও খুলনার আটরা শিল্পাঞ্চলে আলীম জুট মিল ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া বন্ধ ও বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকরা সভা-সমাবেশ করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলিতেও অর্থ সংকটের পাশাপাশি নানা সমস্যা চলছে। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে এ অঞ্চলের সরকারি ৯ পাটকলে গত কয়েক মাস ধরে শ্রমিক মজুরি বকেয়া পড়েছে। এ ছাড়া পাটকলগুলিতে চলতি মূলধনের অভাবও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।
