বিপিএল আর ‘পেইন’ নয়

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৫, ০৯:৫৫
২০১৩ সালের শেষ দিকের কথা। নির্বাচন, বিপিএল কেলেঙ্কারি, মামলা নিয়ে তখন জেরবার অবস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আহ্বায়ক কমিটির। এর মধ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে নানা প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন তখনকার আহ্বায়ক কমিটির প্রধান নাজমুল হাসান পাপন। কথায় কথায় বললেন—সবচেয়ে বড় পেইন হলো বিপিএল; বিপিএলটা একটা যন্ত্রণা।
 
গতকাল সেই ‘পেইন’ শব্দটা মনে করে খুব হাসলেন পাপন। এর মধ্যে সময়টা অনেক বদলে গেছে। সেই নাজমুল হাসান পাপন এখন নির্বাচিত বোর্ডের সভাপতি। সেই মামলাগুলো শেষ হয়েছে। সেই বিপিএল কেলেঙ্কারির বিচার হয়েছে। সময়টা মনে করে এখনও পাপন বলেন, সেটা ‘পেইনফুল’ সময় ছিল। দুই বছর বিরতিতে আরেকটা বিপিএল সফলভাবে শেষ করে এবার বোর্ড সভাপতি বলছেন, বিপিএল খেলার অর্থে খুবই সফল হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, এটাকে আর পেইন মনে হচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করেছি, সবচেয়ে স্বচ্ছ উপায়ে আসরটা শেষ করার জন্য।
 
বিপিএল সফলভাবে শেষ করার আনন্দটা বিসিবিতে কতটা, সেটা বোঝানোর জন্য সংবাদ সম্মেলনের ছবিই যথেষ্ট। তিন-চার জনের সংবাদ সম্মেলন মঞ্চে নয় জন বিসিবি পরিচালক উপস্থিত হলেন। মঞ্চে ছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং আট পরিচালক মঞ্জুর কাদের, আফজালুর রহমান সিনহা, ইসমাইল হায়দার মল্লিক, জালাল ইউনুস, শেখ হোসেন, মাহবুব আনাম ও লোকমান হোসেন ভুঁইয়া। এ ছাড়াও দর্শক সারিতে রইলেন আরও কর্মকর্তারা। এই সবার হাসিমুখে উপস্থিতিই বলে দেয় তাদের মনোভাব।
 
সবার হয়ে পাপনই বলছিলেন, আগের দুই আসরের চেয়ে এবারের বিপিএল অনেক বেশি গোছালো ও শৃঙ্খল ছিল। হযতো দুই-একটা বিপত্তি ছিল। কিন্তু সব মিলিয়ে এবারের বিপিএল বেশ ভালোভাবেই শেষ করতে পেরেছি আমরা। ৬৫ জন বিদেশি ক্রিকেটার খেলে গেছেন। ৬ জন কোচ, কোচিং স্টাফরা ছিলেন। সবাই বিপিএলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা বিপিএল নিয়ে দারুণ ইতিবাচক। দর্শকদের কাছ থেকে অকল্পনীয় সাড়া পেয়েছি। প্রতিটা ম্যাচে আমরা প্রচুর দর্শক দেখেছি। প্রায় সব গ্যালারিই ভরা ছিল। এটাও প্রমাণ করে এবারের বিপিএল তাদের আকৃষ্ট করেছে।
 
গত দুই বিপিএল আসরে বড় সমস্যা ছিল ফিক্সিং ও পাওনা পরিশোধ। বিসিবি সভাপতি বললেন ফিক্সিং তাদের জানা মতে অভিযোগও নেই। আর পাওনাও প্রায় পরিশোধ হয়ে গেছে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবং চিটাগং ভাইকিংস তাদের সব ক্রিকেটারের শতভাগ পাওনা মিটিয়ে দিয়েছে। রংপুর রাইডার্স বিদেশিদের শতভাগ এবং দেশি ক্রিকেটারদের ৭৫ শতাংশ পাওনা পরিশোধ করেছে। এ ছাড়া বরিশাল বুলস, ঢাকা ডাইনামাইটস ও সিলেট সুপার স্টার্স সব ক্রিকেটারের ৭৫ শতাংশ পাওনা দিয়ে দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ীই চলছে সব দল।
 
ফিক্সিং নিয়ে নিজেদের আত্মবিশ্বাসের কথাটাও বললেন বোর্ড সভাপতি, এখানে আমাদের আকসু কাজ করছে। আমরা কোনো ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ এখনো পাইনি। ম্যাচ ফিক্সিং বিষয়ে কোনো প্রশ্ন এখনো আমাদের কাছে আসেনি। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়া এই বিষয়ে কথা বলতেই রাজি নই আমি।
 
পাপন জানালেন, এই এক আসরেই বিপিএল প্রায় ২৫ কোটি টাকা লাভ করেছে। তবে আসল গুরুত্ব দিলেন তিনি জাতীয় দলের প্রস্তুতির ওপর, টি-টোয়েন্টির বড় দুটি আসরের জন্য এই টুর্নামেন্ট খুবই সহায়ক হবে বলে আমার বিশ্বাস। যাদের ওপর অনেক আশা ছিল এমন অনেকেই তেমন কিছু করতে পারেনি। আবার পুরনোরা বেশ কয়েকজন ভালো পারফরম্যান্স করেছে। নতুন কিছু ক্রিকেটার আমাদের চোখে পড়েছে। যেমন সাব্বির যাকে আমরা টি-টোয়েন্টির অন্যতম সেরা ভাবি আমাদের দলের জন্য। সে প্রথম দিকে রানই পায়নি। তবে শেষের দিকে ভালো করেছে। এতে হয়তো সে নিজের ফর্ম ফিরে পেয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়েছে।    
 
তবে শেষ কথা একটাই, বিপিএলের যন্ত্রণাটা আর যন্ত্রণা মনে হচ্ছে না, আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে বিপিএলটা (আগের দুই আসর) পেইনফুল। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর এই একটা ব্যাপারই পেইনফুল ছিল। দলগুলো এসে কথা দিয়ে যায় টাকা দিয়ে দেবে। কিন্তু পরে আর দেয় না। কী আর করব বলেন। এবার স্বস্তি একটাই—এটাকে আর পেইন মনে হচ্ছে না।