আফগানিস্তান এবং মালদ্বীপের কাছে হেরে কেরালা সাফে বাংলাদেশের লজ্জার বিদায় মেনে নিতে পারছে না ফুটবল অঙ্গন। মালদ্বীপকে হারিয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার শেষ সম্ভাবনাটুকু নষ্ট করেছে ফুটবলাররা।
সাফের ব্যর্থতায় এখন সব ক্ষেত্রে ফুটবলারদের সমালোচনা শুনতে হচ্ছে। যে দলটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ভারতের কেরালায় গিয়েছিল সেই দলটি মাথা নিচু করে ঘরে ফিরবে। বাফুফে জাতীয় দলের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপর ক্ষুব্ধ। ম্যানেজার, দলনেতাসহ যারা দলের দায়িত্ব নিয়ে কেরালায় গিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাফুফে।
গতকাল বাফুফের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভা শেষে বাফুফের সিনিয়র সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী জানিয়েছেন ব্যবস্থা নেয়া হবে টিম ম্যানেজমেন্টের উপর। প্রশ্ন উঠেছিল ম্যানেজমেন্ট বলতে জাতীয় দলের দেখভাল করা জাতীয় দল ব্যবস্থপনা কমিটি কিনা। প্রশ্ন উঠার কারণও আছে, ২০১৩ সালে সাফে যখন গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিয়েছিল তখনই কেন ২০১৫ সালের সাফ নিয়ে রোডম্যাপ তৈরি হলো না।
সালাম মুর্শেদী বললেন, না, না ওই কমিটি না। যারা জাতীয় দলের সাথে কেরালায় গিয়েছেন আমরা তাদের কথা বলছি। জাতীয় দলের সাথে ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু, দলনেতা ইকবাল হোসেন। বাফুফে ইঙ্গিত দিয়েছেন এই কর্মকর্তাকে তারা রাখছেন না। ঢাকায় ফেরার সাথে সাথে বহিষ্কার করারও ইঙ্গিত বাফুফের। রহস্যজনক কারণে বাফুফের সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবুকে দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ দেশে খ্যাতনামা সাবেক তারকা ফুটবলার থাকার পরও তাদেরকে জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব দিয়ে সম্মান দেয়া হয় না।
কালকের সভায় সহ-সভাপতি, সদস্যরা প্রশ্ন তুললেন প্রত্যেকটা টুর্নামেন্টে কেন একজনকেই ম্যানেজার করা হচ্ছে। ম্যানেজারের সমালোচনা করা হয় সভায়। সালাম মুর্শেদী বলেছেন, জাতীয় দল ঢাকায় ফেরার পর বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি বলেন, ব্যাপক পরিবর্তন নেয়া হবে।
সাফের ব্যর্থতা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেখানে থাকবেন শেখ মোঃ আসলাম, ইলিয়াস হোসেন এবং এখন জাতীয় দলের হয়ে কেরালায় যাওয়া আজমল আহমেদ তপন।
বাফুফে জাতীয় দলে পরিবর্তন আনতে চায়, সাথে এটাও ভাবছে ৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল শুরু হবে। টুর্নামেন্টের আগে বড় ধরনের ধাক্কায় জাতীয় দলের পারফরম্যান্স আরো খারাপ হয়ে যায় কিনা সেটাও উড়িয়ে দিচ্ছে না।
