শিল্প কারখানায় সোলার পাইপ লাইট ব্যবহারের আহ্বান

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৯:৫৪
 
বাসা বাড়িতে বোতল বাতির পর এবার শিল্প প্রতিষ্ঠানে আলোর চাহিদা পূরন করবে সোলার পাইপ লাইট। তাই বিকল্প আলোর উৎস হিসেবে শিল্প কারখানায় সোলার পাইপ লাইট বা সূর্যবাতি ব্যবহারের আহ্বান জানান দি ফেডারেশন অব চেম্বার অ্যান্ড কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।
 
রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁও এ 'ওয়ার্কশপ অন দি ইনোভেটিভ সলিউশন অব সোলার পাইপ লাইট প্রজেক্ট' শীর্ষক সভায় তিনি এ আহবান জানান। এ সময় সাসটেইনয়েবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’র সদস্য ও ন্যাশনাল প্রজেক্ট ডাইরেক্টর সিদ্দিক জোবায়ের স্বাগত বক্তব্য দেন।
 
চেঞ্জ এর প্রতিষ্ঠাতা সাজেদ ইকবাল সোলার পাইপ লাইট প্রজেক্টের বিশেষ দিক উপস্থাপন করেন। জিআইজেড বাংলাদেশের সিনিয়র এডভাইজার অ্যান্ড একটিং প্রোগ্রাম ম্যানেজার আল মোদাব্বির বিন আমান সোলার পাইপ লাইট পাইলট প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
 
মাতলুব আহমাদ বলেন, শিল্পায়েনের জন্য প্রচলিত পদ্ধতির বিদ্যুত খরচ, মেনটেইন খরচ অনেক বেশি। কিন্তু সোলার পাইপ লাইটের মাধ্যমে বিকল্প আলোর ব্যবস্থায় মাসিক বিলের কোনো ঝামেলা নেই। তাছাড়া মেইনটেইন খরচ খুব বেশি না। যা টেকনিক্যাল ফিজিবল। তাই এ লাইট সারা দেশে শিল্প কারখানায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
 
তিনি বলেন, এই সোলার পাইপ লাইট প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ১০০ টি ইকোনমিক জোনে স্থাপন করতে হবে। তাহলে তারা সাশ্রয়ী দামে আলো  পাবেন। শিল্প বিকশিত হবে। একই সঙ্গে  সোলার লাইট ব্যবহাররের কথা সারা দেশের চেম্বারগুলোর মাধ্যমে ছড়িয়ে দিবেন বলেও জানান তিনি।
 
IMG0
সোলার পাইপ লাইটকে আরও আধুনিকায়ন করার জন্য তিনি প্রজেক্ট উদ্ভাবনী টিমের দুইজনকে নিটল গ্রুপের খরচে ভারত ও  শ্রীলঙ্কার  সোলার কোম্পানিগুলোর পরিদর্শনের করার ব্যবস্থা করবেন।
 
সোলার পাইপ লাইট প্রজেক্টের বিশেষ দিক উপস্থাপনায় চেঞ্জ প্রতিষ্ঠাতা সাজিদ ইকবাল বলেন, ২২ ইঞ্চি ডায়ামিটার ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাইজের একটি সোলার পাইপ লাইট বা বাতি ব্যবহারে ৭৫০ থেকে ৮০০ স্কয়ার ফিট এরিয়ায় আলো দেখা যাবে। এতে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘন্টা বিনামূল্যে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা যাবে। ফলে প্রতি মাসে বিদ্যুত বিল সাশ্রয়ী হবে প্রায় ১৮০০ টাকা।
 
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কে এম হাবিব উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের জালানি প্রায় শেষ। আর এজন্য বিকল্প জালানির চিন্তা করতে হবে। আর এই মুহুর্তে বিকল্প জালানি হিসেবে সোলার লাইটের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
 
তিনি বলেন, সোলার পাইপ লাইট প্রথম পাইলট প্রকল্পে চালু করেছে। প্রথম আবিস্কারে অনেক ত্রুটি থাকে। ক্রমান্বয়ে এসব ত্রুটি দূর হয়ে যাবে। দিন দিন আরও আধুনিক হবে। এর ধারাবাহিকতায় সোলার পাইপ লাইটে প্রকল্প আরও আধুনিকায়ন হবে বলে আশা করেন তিনি।
 
বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) সভাপতি ডিপাল চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, সোলার পাইপ লাইট নতুন ডাইমেনশন হিসেবে সোলার এনার্জিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে আমরা সোলর নিয়ে কাজ করছি। প্রজেক্টের ভিডিও দেখে মনে হচ্ছে এর ভবিষ্যত ভালো।
 
তিনি বলেন, দেশের আড়াই কোটি মানুষ সোলার এনার্জি ব্যবহার করছে। দিন দিন সোলার এনার্জির বাড়ছে। তবে সোলার এনার্জি ব্যবহারে যাতে প্রচলিত জালানির চেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী হয় সেদিকে খেয়াল রাখার আহবান জানান তিনি।
 
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নিয়ে কিভাবে সহজে ও সাশ্রয়ী ভাবে মানুষের দূর গোড়ায় সোলার এনার্জির সুবিধা পৌছে তা এখন চিন্তার বিষয়।
 
সাস্টেইনয়েবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এসআরইডিএ বা শ্রীডা)  চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম শিকদার বলেন,  শ্রীডার একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে বিকল্প জালানির উতস খোজ করাই এ প্রতিষ্ঠানের কাজ। যারা সোলার এনার্জি নিয়ে কাজ করছে আমরা তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করব।