রানের জন্য ব্যাটিং করি: সৌম্য সরকার

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৬, ১০:০১
২০১৫ সালে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা আবিষ্কার তিনি। তার ব্যাটিংয়ের একটা ঝলকই অনেক ভক্ত তৈরি করে ফেলে। সেখানে বছর জুড়ে ছিলেন ধারাবাহিক রানের মধ্যে। অবশ্য বছরের শেষ দিকে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে বিপিএলে একটু ছন্দ হারিয়ে ফেলেছিলেন।  সৌম্য সরকার বলেছেন, এখন সেই ছন্দে ফেরার অপেক্ষায় আছেন তিনি। সামনে লম্বা মৌসুম শুরুর ঠিক আগে নিজের ব্যাটিং, লক্ষ্য নিয়ে কথা বললেন এই ওপেনার। একান্ত সাক্ষাত্কার নিয়েছেন দেবব্রত মুখোপাধ্যায়—
 
 
 
 
সৌম্য, ছুটি কেমন কাটলো?
 
বেশ ভালো। বাড়িতে ছিলাম, সাতক্ষীরায়। বন্ধুদের সঙ্গে ভালো আড্ডা হলো। বাসার লোকজনের সঙ্গে অনেক দিন পর বেশ সময় কাটলো। একটা রিফ্রেশিং ব্যাপার ছিল আর কী।
 
এই প্রশ্নটা প্রায়ই করি। তারকা হয়ে যাওয়ার পর বাড়িতে কী আগের মতো সময় কাটানো যায়?
 
যায়। বাড়ির ভেতরে তো একেবারেই আগের মতো থাকি। হ্যাঁ, বাড়ির বাইরে একটু পরিবর্তন এসেছে। এখন লোকজন কথা বলতে, ছবি তুলতে এগিয়ে আসে। বাইরে কোথাও আড্ডা দিতে গেলে পরিবর্তনটা টের পাওয়া যায়।
 
এটা কী বিরক্তিকর?
 
একদম না। আমি এটা উপভোগ করি। আমি এটাকে একটা পাওয়া বলে মনে করি। মানুষের ওপর বিরক্ত হওয়ার তো কোনো কারণই নেই।
 
তারপরও মিস করেন না? সেই আগের মতো করে ঘুরে বেড়ানো যায় না, যেখানে খুশি বসে পড়া যায় না?
 
আমি আসলে এখনও মিস করতে শুরু করিনি। এটাই এখনও উপভোগ করছি। জানি না, পরে কী হবে। আপাতত মিস করছি না।
 
একটু সামনে তাকানো যাক। আগামীকাল (আজ) ক্যাম্প শুরু হচ্ছে। সামনে অনেক খেলা। আপনাদের মানসিক প্রস্তুতিটা কেমন?
 
আমার কথা বলতে পারি, আমি এখন নতুন করে শুরু করতে প্রস্তুত। সামনে আমাদের যত খেলা, বেশিরভাগই টি-টোয়েন্টি। সেগুলো আবার বড় বড় টুর্নামেন্ট। ফলে আমাদের ভালো করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এখানে তো একটা ম্যাচও রিল্যাক্স করার সুযোগ থাকবে না। ফলে আমাদের সেভাবেই তৈরি হতে হবে।
 
আপনার তো টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা খুব কম। ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা কম ছিল। এখানে কী একটা মিল টের পাচ্ছেন?
 
(হাসি) অভিজ্ঞতা কমের ঘাটতিটা পুষিয়ে নিতে হবে। আমি সিনিয়রদের সঙ্গে আলাপ করছি। কোচের সঙ্গে নিশ্চয়ই আলাপ করবো।
 
শুধু আপনার নয়, বাংলাদেশ দলেরই টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা কম। গত বছর পুরোটা সময় বাংলাদেশ ওয়ানডে খেলেছে। এখন টানা টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া কতোটা কঠিন হয়?
 
এক ফরম্যাট থেকে আরেক ফরম্যাটে আসা সবসময়ই একটু কঠিন। এবার আমার মনে হয় না, ততো কঠিন হবে। কারণ আমরা বিপিএল খেললাম সবাই। এতোগুলো ম্যাচ খেলায় যে সুইচ করার ব্যাপারটা বলছেন, সেটা খানিকটা হয়ে যাওয়ার কথা। টি-টোয়েন্টির ধরনের মধ্যেই আছে সবাই। এরপর অনুশীলন হবে এই ফরম্যাট সামনে রেখে। ফলে কঠিন হবে না।
 
বিপিএলে আপনি খুব একটা ভালো করতে পারেননি। সেই সময় কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস কী ফিরে পাচ্ছেন?
 
আসলে দুটোকে আমি আলাদা করে দেখছি। একটা ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট, আরেকটা জাতীয় দলের হয়ে খেলা। জাতীয় দলে একটা ছন্দের মধ্যে ছিলাম, সেটাই মনে রাখতে চাচ্ছি। তাতে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখাটা সহজ হয়। আর ক্যাম্পে ফিরলে সেটা আরও ভালোভাবে ফিরে আসবে বলে মনে হয়।
 
আপনার খেলার ধরনের কারণেই শর্টার ফরম্যাটে আপনার দিকে নজর বেশি থাকবে বলে অনুমান করা যায়। আপনি কী এটা টের পাচ্ছেন?
 
আমি এই ধারণাকে গুরুত্ব দিতে চাই না। জাতীয় দলে আমাদের এখন অনেক পারফরমার। প্রত্যেকেই ভালো করার যোগ্যতা রাখে। কারো একার দিকে দল চেয়ে থাকে না। আর আমি চেষ্টা করবো নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে।
 
কিন্তু আমরা দেখি, টি-টোয়েন্টিতে অনেকেই ইম্প্রোভাইজেশন করার চেষ্টা করেন।
 
এটা যার যার ব্যাপার। আমার মনে হয় না, আমি ব্যাটিংয়ে কোনো ইম্প্রোভাইজেশনের চেষ্টা করবো। আমার স্বাভাবিক যেসব শট, সেগুলোও করতে চাই। আবার কেউ কেউ ভিন্ন ভিন্ন ফরম্যাটে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাটিং করতে অভ্যস্ত। তারা ইম্প্রোভাইজ করে।
 
আপনার ব্যাটিংয়ের সময় কী সুন্দর শট করার ব্যাপারটা মাথায় থাকে?
 
একদমই না। আমার শট দেখতে সুন্দর কীনা, এটা যে দেখছে তার ওপর নির্ভর করে। আমি তো রান করার জন্য শট করি। সুন্দর-অসুন্দর নিয়ে ভাবি না।
 
কিন্তু একটা বিদেশি পত্রিকায় আপনাকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছিল, আপনি সচেতন থাকেন যাতে শটটা দেখতে ভালো লাগে!
 
এটা তো সম্ভব না। আমি শট করার সময় দেখতে কেমন লাগবে ভাবলে তো ফোকাসই নষ্ট হয়ে যাবে। আমি বলতে পারি, আমি কখনোই আমার প্রাকৃতিক না, এরকম শট করতে চাই না। আমি যে শট ভালো পারি, সেটাই করি। আর এই ভালো পারাটাও কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলায়।