সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, বিগত ৫ মাস দেশে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকলেও ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এসময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে ছিলো, দেশের অভ্যন্তরে সুদের হার ও মূল্যস্ফীতিও কমেছে, টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল ছিলো। এরপরেও দেশে বিনিয়োগ নিবন্ধনের হার কমেছে, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পুঁজিবাজারে আইপিও কমে গেছে, রাজস্ব আদায় পরিস্থিতিও দুর্বল। চলতি অর্থ বছর লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হতে পারে। এই সংকট উত্তরণে জ্বালানির দাম কমানোসহ আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের অর্থনীতির সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল রবিবার ‘স্টেট অব দ্যা বাংলাদেশ ইকোনমি ২০১৫-১৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিপিডি। এ উপলক্ষে ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিপিডির ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান, সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, গবেষণা পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রমুখ।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অর্থনীতিতে উদ্বেগ না থাকলেও অস্থিরতা আছে। মূলত আর্থিক খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এ সংকট দৃশ্যমান হচ্ছে না। তবে প্রকাশ্যেই ব্যাংকগুলোর তহবিল তছরুফ করা হচ্ছে। ব্যাংক ঋণের বড় অংশ যাচ্ছে পরিচালকদের প্রতিষ্ঠানে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েও তহবিল তছরুফের ঘটনা দেখা যাচ্ছে।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা রয়েছেন। ৩ বছর পর হলেও হলমার্কের টাকা উদ্ধার করা যায়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেবপ্রিয় বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বর্তমানে ভালো। এর থেকে জরুরি জঙ্গিবাদ দমন। অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে সব সময় রাজনীতির মাঠ স্বাভাবিক রাখতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবেও দেশের জঙ্গিবাদের বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর্থিক বিবেচনায়ও এটি জরুরি।
এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এ পর্যন্ত ৪৬ মিলিয়ন ডলার বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেশের ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বাড়ছে। তারা বিদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। এখন সরকারের উচিত প্রয়োজনে একটি নীতি বা আইন করা। যাতে ব্যবসায়ীরা সীমিত আকারে এই সুযোগ পেতে পারে। এ বিষয়ে দেবপ্রিয় বলেন, যারা বিদেশে সম্পত্তি করছেন তাদের জন্য বেনামী সম্পত্তি ঘোষণার বিধান রেখে আইন করা যেতে পারে; যেটি ভারতে রয়েছে।
