সিয়েরালিওন ইবোলা মুক্ত ঘোষণার পরও একজনের মৃত্যু

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৬, ১৬:৫১
 
সিয়েরালিওনে ইবোলায় এক নারীর প্রাণহানি হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) পশ্চিম আফ্রিকাকে ইবোলা মুক্ত ঘোষণা করার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নতুন করে এ রোগে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেল।
 
গত ৭ নভেম্বর সিয়েরালিওনকে ইবোলা মুক্ত ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার লাইবেরিয়াকে ইবোলা মুক্ত ঘোষণা করার মধ্য দিয়ে এ অঞ্চল পুরোপুরি ইবোলা মুক্ত হয়। তবে এর কয়েক ঘন্টার মধ্যে সিয়েরালিওনে ইবোলায় এক নারীর প্রাণহানি ঘটলো।
 
সিয়েরালিওনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপি'কে বলেন, গিনি সীমান্তের কাছে উত্তরাঞ্চলের বামউ লুমা গ্রামে এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ার পরপরই মারা যায়। পরে প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরে ইবোলার জীবাণু পাওয়া যায়।
 
ইবোলা পরীক্ষা কেন্দ্রের মুখপাত্র সিদি ইয়াহিয়া তুনিস বলেন, চনকোলিলি জেলায় ইবোলা আক্রান্ত এক নারীর প্রাণহানি ঘটে। তিনি গিনির সীমান্তবর্তী কাম্বিয়া থেকে ওই জেলা সফর করেন।
 
গত বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) শেষ হিসেবে লাইবেরিয়াকে ইবোলা মুক্ত ঘোষণা করে। এর মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বে ইবোলার কারণে স্বাস্থ্য সতর্কতার অবসান ঘটে। গত দুই বছরে এই মহামারীতে ১১ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। সিয়েরালিওনে ইবোলায় প্রায় ৪ হাজার লোকের মৃত্যু ঘটে।
ডব্লিউএইচও জানায়, লাইবেরিয়া ইবোলা মুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সারাবিশ্ব থেকে এ রোগের অবসান ঘটলো।
 
২০১৩ সালের ডিসেম্বরে গিনির দক্ষিণাঞ্চলে এ রোগ শণাক্ত করা হয়। এরপর পশ্চিম আফ্রিকার তিন দেশ গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরালিওনে এটি ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওই তিন দেশের অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
 
ডব্লিউএইচও’র জরুরী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান রিক ব্রেনান আফ্রিকা অঞ্চলকে ইবোলা মুক্ত ঘোষণার প্রশংসা করে বলেন, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে তিনি এও বলেন, জীবিতদের শরীরে ইবোলার ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা থাকায় কাজ এখন পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
 
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন সতর্কবাণী করেছেন, এ অঞ্চলে আগামী কয়েক বছর বিক্ষিপ্তভাবে এ রোগীর সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। বাসস।