টেনিসে ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৬, ১৪:৫৯
গত দশকে শীর্ষ ৫০ জনের মধ্যে থাকা কমপক্ষে ১৬ জন টেনিস খেলোয়াড় ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত ছিলেন, যাদের মধ্যে গ্র্যান্ডস্লাম বিজয়ী খেলোয়াড়ও ছিলেন। রবিবার গোপন কিছু তথ্য প্রমাণাদি হাতে পাওয়ার পরে এই দাবি করেছে বিবিসি ও বাজফিড।
 
বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরু হওয়ার আগে এই খবর টেনিস বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে। টেনিসের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী ও গৌরবের টুর্নামেন্ট উইম্বলডনেও ম্যাচ পাতানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে! বিবিসি ও বাজফিড জানিয়েছে, পুরুষ টেনিসের পেশাদার সংগঠন এটিপির একটি তদন্ত প্রতিবেদন তাদের হাতে এসেছে। ২০০৭ সালে গঠিত সেই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিশ্ব টেনিসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতি ও খেলোয়াড়দের ম্যাচ পাতানোর অনেক তথ্য প্রমাণই আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালে এটিপি গঠিত তদন্ত কমিটি বিভিন্ন বিষয়ে তথ্যানুসন্ধান করে যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছিল, তাতে রাশিয়া, ইতালি ও সিসিলিতে বেটিং (বাজিকর) সিন্ডিকেটের সন্ধান পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সন্দেহ করা হয়েছে, সেই বেটিং সিন্ডিকেট টেনিস খেলাকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি ডলারের ব্যবসায় ফেঁদে বসেছে।
 
বিবিসির সেই খবরে বলা হয়, গত এক দশকে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৫০ জনের মধ্যে থাকা ১৬ জন খেলোয়াড়ের সন্দেহজনক গতিবিধির ব্যাপারে বেশ কয়েকবারই জানানো হয়েছে টেনিসের দুর্নীতি দমন সংস্থা—টেনিস ইনটিগ্রিটি ইউনিটকে (টিআইইউ)। কিন্তু টিআইইউ হয় এ ব্যাপারে সঠিকভাবে তদন্ত চালাতে ব্যর্থ হয়েছে, অথবা তারা এই ১৬ খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সন্দেহভাজন এই ১৬ তারকার মধ্যে টেনিসের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা—গ্র্যান্ড স্লাম বিজয়ী তারকাও আছে বলে দাবি করেছে বিবিসি ও বাজফিড। তারা অবশ্য এই ১৬ টেনিস তারকার নাম প্রকাশ করেনি। তারা বলেছে, ব্যাংক হিসাব, ফোন ও কম্পিউটার অনুসন্ধান ছাড়া এই ১৬ খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এতে করে এর মধ্যে কেউ নিরপরাধ হলে তিনিও মানুষের সন্দেহের দৃষ্টিতে পড়ে যাবে। তবে এটিপির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এই ১৬ টেনিস খেলোয়াড়ের নাম আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
টেনিসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট উইম্বলডনেও ম্যাচ পাতানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ২০০৮ সালে প্রকাশিত এক গোপন প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেছে বিবিসি ও বাজফিডের সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে সময় ২৮ জন টেনিস খেলোয়াড়ের দিকে কড়া নজর রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। পরে এ বিষয়টি পুরোপুরি ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে এটিপি টেনিসে একটি নতুন দুর্নীতি-বিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন করে। সেখানে পুরোনো অভিযোগগুলোর বিষয়ে নতুন করে তদন্ত করার ব্যাপারে নীতিগত একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা। কিন্তু এত আগে তদন্ত করা হলেও এ ব্যাপারটি না জানিয়ে কেন উল্টো চেপে যাওয়া হলো, এ নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। বিবিসি