শিশু ছাত্রের শরীর পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মাদরাসা সুপার জেলহাজতে

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৬, ১৮:১২
বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরসেলিমপুরের ফজলুল উলুম সেরাতুল কোরআন মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. আল-আমিন মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
 
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোর্পদ করা হলে বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহ তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
 
মাহিমের বাবা গৌরনদী উপজেলার সাকোকাঠী গ্রামের নুর আলম হাওলাদার জানান, সম্প্রতি ওই মাদরাসার শিশু শ্রেণীতে তাকে ভর্তি করানো হয়। সে মাদরাসার ছাত্রাবাসে থাকত। ঘটনার দিন বুধবার গোসল না করে মাদরাসায় যাওয়ার অপরাধে মাদরাসা সুপার মাওলানা মো. আল-আমিন ক্ষিপ্ত হয়ে ক্লাশরুমে মাহিমের গলা চেঁপে ধরে। একপর্যায়ে  ভীত হয়ে শিশু মাহিম ক্লাশ রুমেই মল ত্যাগ করে ফেলে। এতে সুপার আরো ক্ষিপ্ত হয়ে মাহিমকে মাদরাসার পুকুরে নামিয়ে গলা অবধি পানির মধ্যে দাঁড় করিয়ে রাখে। মাহিম শীতে কাঁপতে থাকলে সুপার মাহিমকে পুকুর থেকে তুলে হাত-পা ধরে মাদরাসার রান্নাঘরের জ্বলন্ত চুলায় আগুনের ছেঁকা দেয়। এতে মাহিমের পেটের একটি অংশ পুড়ে দগ্ধ হয়।
ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য মাদরাসা সুপার ছাত্রদের ভয়ভীতি দেখান। এরপর অতিগোপনে তিনি মাহিমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। শিশুটির বাবা আল হাওলাদার এ খবর জানতে পেরে হাসপাতালে ছুটে যান।
 
এরই মধ্যে সুপার আল-আমিন শিশু মাহিমকে ফেলে রেখে আত্মগোপন করেন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে গৌরনদী হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাহিমকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করানো হয়।
 
খবর পেয়ে থানা পুলিশ রাতে ওই মাদরাসা সুপাকে আটক করে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় মামলা হয়।