সকাল থেকে আকাশ জুড়ে মেঘ। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, একটু হাওয়া আছে। গেট থেকে ঢোকার সময় এক নিরাপত্তাকর্মী বললেন, ‘ঝড়-বৃষ্টি হবে।’
ঝড়-বৃষ্টি হোক, আর নাই হোক; বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা ঝড় চলছে। বলা ভালো প্রবল এক ঝড়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। একটার পর একটা একাদশে বদল, স্কোয়াড এলোমেলো করে ফেলা এবং ব্যাটিং অর্ডারে রীতিমতো ওলট-পালট করা হচ্ছে প্রতিটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে।
গতকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামলো স্বাগতিক দল। এই পাঁচটি পরিবর্তন আগে থেকেই মোটামুটি ধারণা করা গিয়েছিলো। পাঁচ পরিবর্তনের চেয়েও বিস্ময়কর হয়ে এলো এই ম্যাচে আরো একবার চার খেলোয়াড়ের টি-টোয়েন্টি অভিষেক।
গতকাল বিশ্রাম ও ইনজুরি মিলিয়ে দলের বাইরে রইলেন তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, আল আমিন হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান ও শুভাগত হোম। তাদের বদলে দলে এলেন ইমরুল কায়েস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোহাম্মদ শহীদ, আবু হায়দার রনি ও মুক্তার আলী। এর মধ্যে মোসাদ্দেক, শহীদ, রনি ও মুক্তারের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হলো গতকাল।
এতো সব বদলের ফলে মনে হতে পারে, খুব অস্থিতিশীল একটা পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু এর মধ্যে কিছু পরিবর্তন ছিলো বাধ্য হয়ে। আর বাকীটা হয়েছে মূলত পরীক্ষার কারণে। আর টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করে, সেই পরীক্ষাটা করা হচ্ছে একাধারে বিশ্বকাপের জন্য একটা সঠিক একাদশ খুঁজে পাওয়া এবং ব্যাক আপ খেলোয়াড়দের ম্যাচ অনুশীলনের সুযোগ করে দেয়া।
পেছনের যুক্তি যা হোক, একটু ইতিহাসে চোখ বোলালে আমরা দেখতে পাবো, ৪ জনের টি-টোয়েন্টি অভিষেক ঘটিয়ে ফেলা বাংলাদেশের মতো অস্থির-মতির ম্যানেজমেন্টের জন্যও বিরল ব্যাপার। কার্যত এই ফরম্যাটে সেই শুরুর দিনগুলোর পর এমন কাণ্ড আর দেখা যায়নি।
প্রথম ম্যাচে ১১ জনের স্বাভাবিক অভিষেকের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় ম্যাচেই বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছিলো ৬ ক্রিকেটারের। এরপর দুই দফা ৩ জন করে ক্রিকেটারের অভিষেক হলেও চার বা ততোধিক খেলোয়াড়ের অভিষেক আর দেখা যায়নি। মানে ২০০৭ সালের সেই কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের দশ বছর পর এতো তোলপাড় হলো।
আরো কিছু বিস্ময়কর তথ্য আছে। গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশ যে টানা ৫টি টি-টোয়েন্টি খেলেছে, তাতে জাতীয় দলের হয়ে ১৭ জন ক্রিকেটার মাঠে নেমেছেন। এর মধ্যে শুধু এই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছিলো। এর মধ্যে ৭ জনের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছে!
বিস্ময়ের এখানে শেষ নয়। এই পাঁচ ম্যাচের সবগুলোতেই খেলেছেন মাত্র ৩ জন খেলোয়াড়— মাশরাফি, মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির রহমান রুম্মন। তবে কোচ ও অধিনায়কের এই কাজকে পুরোপুরি সমর্থন করছেন নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। তিনি মনে করেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি যেহেতু খেলার সুযোগই কম আসে, তাই এমন সুযোগ কাজে লাগানো উচিত, ‘সামনে বড় কিছু টুর্নামেন্ট আছে। আমাদের সব খেলোয়াড়কে প্রস্তুত রাখা জরুরি। এদিকে আমরা ম্যাচ ততো বেশি খেলতে পারি না। তাই এই সময়ে বিবেচনার সবাইকে সুযোগ দেয়া দরকার।’
এরপরও একটা শঙ্কা থাকে— এতো ওলোট-পালটে আত্মবিশ্বাসে প্রভাব পড়তে পারে ইনফর্ম খেলোয়াড়দের। কিন্তু সাবেক অধিনায়ক সুমন বলছেন, ‘এটা কোচ-অধিনায়ক খুব ভালোভাবে সামলাচ্ছে। যে বাইরে থাকছে, তাকে বুঝিয়ে বলা হচ্ছে ব্যাপারটা। সবচেয়ে বড় কথা, খেলোয়াড়রা সবাই জানে, কেন এই পরীক্ষা করা হচ্ছে।’
