মালিকানা নিয়ে বিরোধপূর্ণ পুুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উম্মে সামলা (৬৫) নামের এক নারীর বাম পা গোড়ালী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় অন্য আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার বিকালে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের বিনোদনগর ইউনিয়নের বড় মাগুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত উম্মে সামলা একই ইউনিয়নের ভোটারপাড়া গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিনের স্ত্রী। তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
জানা যায়, বড় মাগুড়া গ্রামের ১১ বিঘা ১০ শতাংশ জমির পুকুর মালিকানা নিয়ে ভোটারপাড়া গ্রামের মৃত এমাজ উদ্দিনের ছেলে এনামুল হক (৬০) ও আব্দুর রহিমের ছেলে আলমগীরের (২৮) সঙ্গে একই গ্রামের বয়েজ উদ্দিনের ছেলে জাহিরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘ দিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন উম্মে সালমাসহ এনামুল হক ও আলমগীর হোসেন ওই পুকুর পাড়ে মাছ ধরতে গেলে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে ঝগড়া হয়। এর এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে উম্মে সালমা নামের ওই বৃদ্ধার বাম পায়ের গোড়ালী থেকে পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে আহত হন এনামুল হক (৬০) ও ছেলে আলমগীর (২৮)। এদের সবাইকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
আহত আলমগীর হোসেনের বাবা আব্দুর রহিম বলেন, 'তাদের নিজস্ব পুকুরে মাছ ধরার সময় জহিরুল ইসলাম তার দলবল নিয়ে তার ছেলেসহ অন্যদের ওপর বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করায় ওই বৃদ্ধার পা বিচ্ছিন্নসহ তার ছেলেসহ অন্য একজন গুরুতর আহত হয়েছে।'
অপর পক্ষের জহিরুল ইসলাম বলেন, 'ওই পুকুরটি গ্রামের মসজিদ কমিটির কাছ থেকে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন। কিন্তু ভোটারপাড়া গ্রামের লোকজন ওই পুকুর থেকে মাছ চুরি করার সময় বাধা দেয়ায় তারা তার ওপর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক ব্যক্তি আহত হয়েছে।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে। এ কারণে প্রশাসন উভয় পক্ষকে পুকুরে যেতে নিষেধ করেছেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, 'ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
