৪৪ বছর পর হার্ডিঞ্জ সেতুর ধ্বংসাবশেষ পদ্মা নদীতে

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৬, ১৭:২৪
স্বাধীনতা অর্জনের ৪৪ বছর পর হার্ডিঞ্জ সেতুর ধ্বংসাবশেষ ‘লৌহ খণ্ড’ ঈশ্বরদীর পাকশী ঘেঁষা পদ্মা নদীতে জেগে উঠেছে। এই ধ্বংসাবশেষ দেখার জন্য কৌতূহলী লোকজন নদীর তীরে ভীড় জমাচ্ছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ দিকে দেশের সর্ববৃহৎ এবং এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম রেলসেতু ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজের’একটি স্প্যান উপর্যুপরি বোমার আঘাতে নদীতে খসে পড়ে।
 
নদী তীরবর্তী এলাকার লোকজন জানায়, কয়েক মাস আগে নদীর দক্ষিণে লক্ষীকুন্ডা এলাকায় জেলেরা মাছ ধরার সময় জাল পানির নিচে আটকে যায়। জাল ছাড়াতে জেলেরা নদীতে ডুব দিয়ে এই বিশাল লৌহ খণ্ডের সন্ধান পায়।
 
এরই মধ্যে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে যাওয়ায় এই লৌহখণ্ডের অংশবিশেষ দৃশ্যমান হয়েছে। এরমধ্যে জেলেরা আরো দুটি স্প্যানের অংশের সন্ধান পায়। এলাকার বয়স্ক ব্যক্তিরা নৌকা নিয়ে এই খণ্ডগুলো দেখে ব্রিজের অংশ বলে নিশ্চিত করেছেন।
 
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক পাকশীর অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনী যশোর থেকে একটি ট্রেনে করে বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও রসদ নিয়ে ঈশ^রদীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। উদ্দেশ্য ঈশ^রদীতে সমবেত হয়ে প্রতিরোধ তৈরি করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। পাকবাহিনী এ সময় হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ভেড়ামারা প্রান্তে এসে থামে এবং পাকসেনাদের অনেকেই পায়ে হেঁটে ব্রিজ পার হয়। মুক্তিবাহিনীর আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য পাকশীর পাকসেনারা আগে থেকেই হার্ডিঞ্জ ব্রিজের উপর একটি ট্যাংক রেখে দিয়েছিল। এছাড়াও তারা ব্রিজে ডিনামাইটও সেট করে রেখেছিল। সকাল ১১ টা থেকে সাড়ে ১১ টার দিকে ভারতীয় মিত্র বাহিনী পাকবাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য বিমান থেকে ব্রিজের উপর বোমা বর্ষণ শুরু করে।
অধ্যাপক কালাম জানান, মিত্র বাহিনীর বোমা বর্ষণ ও পাকবাহিনীর ডিনামাইটের ডাবল চার্জে ব্রিজের ১২ নম্বর এবং পাকশী প্রান্তের ৪ নম্বর স্প্যানটি এ সময় ভেঙ্গে খসে পড়ে।
 
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারের অফিস তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, দীর্ঘ ৪৪ বছরে এই খণ্ডগুলো স্রোতের টানে ব্রিজেরঅবস্থান থেকে প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে।
 
রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম জানান, খণ্ডগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।