জেঁকে বসছে শীত

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৬, ০০:৫৬

শীত জেঁকে বসেছে দেশের উত্তর-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদে। সারাদেশে এবারে শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম হলেও পল্লী ও প্রত্যন্ত জনপদে এবং নগর-শহর-বন্দরে দরিদ্র ও সাধারণ জনজীবনে শীতের কষ্টদায়ক প্রভাব কম নয়। শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে। প্রাত্যহিক ব্যয় নির্বাহে নিরুপায় তারা। এর উপর রয়েছে শীতবস্ত্রের অভাব। নদী সিকস্তি ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরো বেশি।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
বৃষ্টির দু’দিন পর শুক্রবার দুপুরে সামান্য সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মেলে রাজশাহী অঞ্চলে। কিন্তু সূর্য বেশিক্ষণ রোদের উত্তাপ ছড়াতে পারেনি। ফলে উষ্ণতা ছড়ায়নি, শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের জীবনযাত্রা। সারাদিনের হিমেল হাওয়ার পর সন্ধ্যায় কনকনে ঠাণ্ডায় কাঁপছে পদ্মা পাড়ের জনপদ। শীতবস্ত্রের অভাবে ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। শীত নিবারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা ফুটপাতের কম দামের শীতবস্ত্রের দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর ছিন্নমূল মানুষদের রাস্তার ধারে খড়-কুটায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক ডা. আরিফুল হক জানান, রোগীদের বেশিরভাগই ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হূদরোগ, অ্যাজমা নিয়ে আসছেন।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক লতিফা বেগম জানান, শুক্রবার রাজশাহীতে সর্বনিম্ন ১১.৫ এবং সর্বোচ্চ ১৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। মাঘের বৃষ্টির পর প্রতিদিনই তাপমাত্রার ব্যবধান কমছে। জানুয়ারির শেষের দিকে রাজশাহী অঞ্চলে ১ থেকে ২টি মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) অথবা মাঝারি (৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, শীত মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ৭০ হাজার পিস কম্বল মহানগরী এবং জেলার ৯টি উপজেলায় বিতরণের জন্য পাঠানো হয়েছে।

বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়াসহ গোটা উত্তরাঞ্চলে বইছে হিমেল হাওয়া। কুয়াশার সাথে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বৃহস্পতিবার থেকে দেখা মিলছে না সূর্যের। শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে ।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মাহমুদুল হাসান জানান, শুক্রবার বিকাল ৩টায় বগুড়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বোচ্চ ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৮৭ শতাংশ। শনিবার থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে এবং তা এক সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তীব্র শীতে মানুষ জবুথবু হয়ে পড়েছে। কষ্ট বেড়েছে ছিন্নমূল মানুষের। বিশেষ করে যারা গৃহহারা তারা তীব্র শীতে কাবু হয়ে পড়েছে। বৃদ্ধ ও শিশুরা সর্দি, শ্বাসকষ্ট, আমাশয়সহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শীতবস্ত্রের দোকানে ভিড় জমেছে।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাট জেলায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল মানুষ। শহরে রিকশা চলাচল কমে যাওয়ার পাশাপশি রেলওয়ে মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলায়  শুক্রবার ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বুধবার  ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। রেলওয়ে হকার্স মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানে উপচেপড়া ভিড় মানুষদের। জেলায় গত তিন দিনে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষ জবুথবু হয়ে পড়েছে শীতের তীব্রতায়। আগুন জ্বালিয়ে শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন অসহায় দরিদ্র মানুষ। শীতের তীব্রতার কারণে বোরো বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হতে পারে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ছাব্বির ইবনে জাহান।
IMG0
পুঠিয়া (রাজশাহী) সংবাদদাতা
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় শীত জেঁকে বসেছে। মঙ্গলবার ও বুধবার বৃষ্টিপাতের পর কনকনে বাতাস বইতে শুরু করলে শীত তীব্রতর হয়েছে। ছিন্নমূল মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে সূর্য উঁকি দিলেও শুক্রবার সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনজুর রহমান জানান, মাঘের প্রথমে বৃষ্টিতে আলু ও আগাম মশুরের কিছু ক্ষতি হলেও গম, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুনের জন্য ভালো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান জানিয়েছেন, সরকারি ভাবে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ হয়েছে।  তিনি রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে শীতার্ত গরিব ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান।

বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
মাঘের বৃষ্টিতে জেঁকে বসেছে শীত। শীতে কাঁপতে শুরু করেছে নদী তীরবর্তী ও সীমান্তঘেঁষা বাঘা উপজেলার মানুষ। দু’দিনের গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টি আর সূর্যের লুকোচুরি খেলায় এ আঞ্চলে বেড়ে গেছে শীতের প্রকোপ। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। অনেককেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। সকালে মানুষ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে দেরি করে, তেমনি সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার আগেই মানুষ ঘরমুখী হওয়ার কারণে উপজেলার প্রধান প্রধান রাস্তা ও  মার্কেট  ফাঁকা হয়ে পড়ছে। বেশি কষ্ট পাচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষ। শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। শীতের কারণে বোরো ধানের চারা এবং অত্র অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল আমসহ মশুর, আলু এবং সরিষার ক্ষতির আশংকা করছেন কৃষকরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা
তীব্র হাড়কাঁপানো শীতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ৪ দিন এখানে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস গতকাল শুক্রবার চলতি শীত মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড  করেন ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ৪ দিন সন্ধ্যা নামতে না নামতে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে এ উপজেলা। সেই সাথে তীব্র হচ্ছে শীতের প্রকোপ। দুর্ভোগ-দুর্দশা বাড়ছে ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষের। কষ্টে পড়েছে বৃদ্ধ, শিশু, হতদরিদ্র মানুষ ও দিনমজুর। শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। কনকনে শীতে সন্ধ্যায় বাজার-ঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। ছিন্নমূল মানুষেরা খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। বাজারের পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে শীতবস্ত্র কেনার জন্য নিম্নআয়ের ও ছিন্নমূল মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঘন কুয়াশায় প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহন দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। গত কয়েকদিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে রবি ফসলসহ বোরো বীজতলায় নানা রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ছিন্নমূল মানুষের জন্য কিছু সংস্থা শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও তা অপ্রতুল। সরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করতে দেখা যায়নি।