কেন্দুয়ায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের হিড়িক, দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৬, ১৭:২১
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় পল্লিবিদ্যুতের অবৈধ সংযোগের হিড়িক পড়েছে। পল্লিবিদ্যুৎ অফিসের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসে উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই অবৈধ সংযোগ দেয়া হচ্ছে অভিযোগ রয়েছে।
 
এদিকে পল্লিবিদ্যুতের এসব অবৈধ সংযোগের তারে জড়িয়ে গত ছয় মাসে এক ইউনিয়নেই একজন কলেজ ছাত্রসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
 
এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজনগর চরপাড়া গ্রামের মাহতাব উদ্দিন মাস্টারের বাড়ির আবাসিক মিটার থেকে অবৈধভাবে বাড়ির সামনে প্রায় তিন শ ফিট দূরে দুইঘোড়া সেচ যন্ত্রের সংযোগ দিতে গিয়ে তারে জড়িয়ে একই গ্রামের আব্দুস সালামের কলেজ পড়ুয়া ছেলে পাভেল মিয়া (২০) নিহত হন।
 
এছাড়া গত বছরের ৪ অগাস্ট রোয়াইলবাড়ি গ্রামের দিনমজুর সোলমান মিয়ার কিশোর ছেলে মামুন (১৫) একই গ্রামের স্বপন মিয়ার বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করতে গিয়ে ফিশারীজ পুকুরে অবৈধ পল্লীবিদ্যুতের সেচ লাইনের তারে জড়িয়ে নিহত হয়। ঘটনার আটদিন আগে ২৮ জুলাই রাজনগর গ্রামের জিলাল মিয়া প্রায় সাত শ ফিট দুরে নির্মাণাধীন নতুন বাড়িতে পল্লিবিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ নেন। ওই বাড়ির পাশে জমিতে কৃষি কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হন কৃষক সুজন মিয়া (৩৫)।
 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পল্লীবিদ্যুতের লোকজন অবৈধ সংযোগ দেন। আর দুর্ঘটনার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে সংযোগটি সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে নিজেদের পেশাগত দ্বায়িত্ব শেষ করেন। 
 
নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কেন্দুয়া এরিয়া অফিসের এজিএম মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমি কিছুদিন হল কেন্দুয়া অফিসের দ্বায়িত্বে যোগদান করেছি। পূর্বের ঘটনাগুলো আমার জানা নেই।’
 
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিরঞ্জন দেব বলেন, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ না করায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।