বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির গল্প শুধুই বাঙ্গালির কাছেই নয়, সারা বিশ্বেই কৌতূহলের বিষয়।’
শনিবার বেলা ১১ টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সংবাদপত্র পাঠক ফোরাম আয়োজিত ‘জীবনের কথা, অর্থনীতির কথা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
আতিউর রহমান বলেন, ‘বিদেশিরা জানতে চায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী এমন ঘটেছে যার ফলে বিশ্বমন্দার মধ্যেও দেশটি গত এক দশক ধরে গড়ে ছয় শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছে।’
এ সময় তিনি জানান, জিডিপির ভিত্তিতে দেশটির স্থান এখন বিশ্বে ৪৫তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩৩তম। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ‘গ্যালপ’ এর মতে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।
ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের ধারা অক্ষণ্ন রেখেই আমরা উন্নয়নমুখী ব্যাংকিং, দরিদ্রের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক নয়া ধারা চালু করেছি। বহির্বিশ্বে আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব নীতিকে এখন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হয়। আর্থিক খাতে আমাদের অর্জিত স্থিতিশীলতাও এখন অনেক উন্নয়নশীল দেশের কাছেই মডেল।’
বতর্মানে সব সূচকেই স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ‘আমদানি, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মাথাপিছু আয় বাড়ছে। সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যের হার, গড় আয়ুসহ অনেক সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন এখন লক্ষ্যণীয়। সেই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কমেছে মূল্যস্ফীতির হারও।’
রাবির শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র চত্বরে সংগঠনটির সভাপতি নাসির উদ্দিন শুভর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে রাবি উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান, কথা সাহিত্যিক প্রফেসর হাসান আজিজুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এতে পাঠক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও বিআইডব্লিউ্টি এর যুগ্ম-পরিচালক আরিফ হাসনাত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
এতে রাবির বিভিন্ন বিভাগের সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে রাবি পাঠক ফোরামের ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন অতিথিরা।
