উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী পানবাজার এলাকায় ইয়াবা পাচার প্রতিরোধ ও স্থানীয় আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ৮টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে।
উখিয়া থানা পুলিশ ব্যাপক লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে সোচ্ছার গ্রুপের দলনেতা ইউপি সদস্য ফজল কাদের ভুট্টো ও একই এলাকার আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে বখতিয়ার আহাম্মদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। শনিবার দিবাগত রাত ৮ টার দিকে ইউপি সদস্য ফজল কাদের ভুট্টো বালুখালী পানবাজার চায়ের দোকানে আলাপরত অবস্থায় প্রতিপক্ষরা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে দা, ছুরি, লোহার রড নিয়ে হামলা করলে শুরু হয় সংঘর্ষ। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বালুখালী পানবাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ইউপি সদস্য ফজল কাদের ভুট্টো, যুবলীগ সভাপতি আবু তাহের, যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন ও নাজির হোছেনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে বখতিয়ার আহাম্মদ ও তার বাবা হাজী আবদুল মজিদ, জাহাঙ্গীর, মো. ছিদ্দিক ও আবছারকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইউপি সদস্য ফজল কাদের ভুট্টো বলেন, 'প্রতিপক্ষরা বালুখালী বিজিবি সুবেদার ফজলুল হককে গুলি করে আহত করার ঘটনায় বিজিবি এসল্ট মামলার আসামি। একই মামলার আমি স্বাক্ষী ছিলাম। এ ঘটনায় তাদের ক্ষোভ ছিল। পাশাপাশি ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে আমি সোচ্ছার হয়ে এলাকায় সভা-সমাবেশ করার ঘটনায় প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিত ভাবে হামলা করেছে।'
আহত বখতিয়ার আহাম্মদ বলেন, 'আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তিনি সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষরা হামলা করেছে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান সংঘর্ষের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, 'এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় মামলা করেনি। অভিযোগ করলে তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
