নিজেকেও ছাড়িয়ে যেতে চান শান্ত

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৬, ০৯:১০
অপরাজিত ৩৮, ৪৫, অপরাজিত ৪১, ৭৯ ও ১০২। গত নভেম্বর থেকে গত শনিবার পর্যন্ত পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচে শান্তর ব্যাটিং পরিসংখ্যানটা এরকমই। পরিসংখ্যানটাই বলে দিচ্ছে শান্তর বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। এমনই এক মাহেন্দ্রক্ষণে শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট।
 
যুবাদের এ মহাযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ তাকিয়ে আছে নাজমুল হোসেন শান্তর দিকে। তাদের হতাশ করতে চান না এই অলরাউন্ডার। বিশ্বকাপের আগে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে গত শনিবার জিম্বাবুয়েকে ৬৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশের যুবারা। অসাধারণ এক সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন শান্ত। ওই সেঞ্চুরিতে নিজের আত্মবিশ্বাসের মাত্রাটা বাড়িয়ে নিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান।
 
অবশ্য কিশোর এই ব্যাটসম্যান মনে করেন না যে, তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স কোনো প্রত্যাশার চাপ তৈরি করবে। গতকাল নগরীর চিটাগং ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে বলছিলেন, ‘চাপের মধ্যে আছি বলা ঠিক হবে না। আবার চাপ যে একেবারেই নেই, সেটাও ঠিক নয়। দেশের জন্য যখন খেলতে নেমেছি তখন চাপতো কিছুটা থাকবেই। তবে চাপের মধ্যেই ভালো করতে হবে। ভালো করার প্রত্যাশাটাও অযৌক্তিক নয়। ভালো কিছু করতে হবে। কারণ আমাদের নিজেদের দেশে খেলা, পরিচিত কন্ডিশন।  আমার ব্যক্তিগত পরিকল্পনা হচ্ছে আমি আগের ম্যাচগুলো যেভাবে খেলেছি, তার চেয়েও ভালো কিছু আমাকে করতে হবে। যত রান করেছি তার চেয়েও বেশি রান করতে হবে।’
 
যদিও এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, বাংলাদেশ এবার চ্যাম্পিয়ন হবেই। তবে শান্ত বলছেন, তারা আসলে ধাপে ধাপে ভাবতে চান, ‘গত সিরিজগুলো আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো করেছি। চ্যাম্পিয়ন হতে চাই, এমন কথা বলবো না। কারণ এক লাফে গাছে ওঠা যায় না। আমাদের টিমের পরিকল্পনা হচ্ছে আমার স্টেপ বাই স্টেপ আগাবো। প্রথম রাউন্ডের বাধা টপকে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার পরিকল্পান আছে। এরপর ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তাভাবনা করবো।  চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা এখনই ভাবছি না।’
 
শেষ ফলাফল যাই হোক, এই তরুণ ব্যাটসম্যানের ধারণা, অনুশীলন ম্যাচগুলো থেকে আর কিছু না হোক, তাদের খেলোয়াড়রা নিজেদের কর্তব্যটা বুঝতে পেরেছেন, ‘চট্টগ্রামে এর আগে জিম্বাবুয়ের সাথে চারটি ম্যাচ খেলেছি। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে দু’টি ম্যাচ জিতেছি। সর্বশেষ আবার জিম্বাবুয়ের সাথে গত শনিবার প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেছি। বলতে চট্টগ্রামের উইকেটটা আমাদের কাছে অনেক ইজি হয়ে গেছে। অনেক পরিচিত উইকেট। এখন পরিচিত হয়ে গেছে। ব্যাটসম্যানরা বুঝতে পারছেন উইকেটে কীরকম বল হতে পারে। বোলাররা বুঝতে পারছেন কী ধরনের বল করা উচিত। এটা আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। আশা করছি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচে এটা আমাদের অনেক কাজে দেবে।’
 
সব মিলিয়ে নিজেরা সবাই সেরাটা উজাড় করে দিতে চান মাঠে। উপভোগ করতে চান বিশাল এই উপলক্ষ। সবচেয়ে বড় উপলক্ষ, দেশের মাটিতেই বিশ্বকাপ খেলা, ‘দেশের মাটিতে খেলতে পারাটা শুধু আমার জন্য নয়, বাংলাদেশ দলের সবার জন্যই অনেক বড় পাওয়া। এই সুযোগটা আমরা কাজে লাগাতে চাই। তবে দেশের মানুষের কাছে এখন আমাদের একটাই চাওয়া আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’