মাঘের কনকনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। সাতক্ষীরায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে অর্ধশতাধিক শিশু। গাইবান্ধায় প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে ২০ জনেরও বেশি। আর তীব্র ঠাণ্ডায় শীত বস্ত্রের অভাবে বিপাকে পড়েছে গরিব মানুষ। ব্যুরো অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-
সাতক্ষীরা: গত বুধবারের হঠাৎ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির পর শুরু হয়েছে মৃদ শৈতপ্রবাহ। গত চার দিনের প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় জেলায় নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অর্ধশতাধিক শিশু সদর হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে ঘনকুয়াশা ও শীতের দাপটে শহরে লোক চলাচল কমে যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা ও জীবননগর: চুয়াডাঙ্গায় গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রবহমান তীব্র শীতে চরম দুঃখ-দুর্ভোগে পড়েছে বৃদ্ধ ও শিশুরা। নিউমোনিয়া, রোটাভাইরাস ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে সদর হাসপাতালে ৫২ রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছে। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি। জীবননগরে গত শনিবার রাতে হালিমা (৯০) নামে এক বৃদ্ধা মারা গেছেন।
গাইবান্ধা: জেলায় সবচে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন তিস্তা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলের দুস্থ মানুষ। তীব্র শীতে রবিবারও দিনমজুররা ফসলের মাঠে কাজে যেতে পারেননি। শহরে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হননি। বাড়ির উঠানে দরিদ্র পরিবারগুলো আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছেন।
রাজশাহী: রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, শীতজনিত অসুখে আক্রান্ত হয়ে গত তিন দিনে অনেক রোগী ভর্তি হয়েছে।
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম): গত ৪ দিন ঘন কুয়াশায় আছন্ন থাকছে সারাদিন। রোপা আমন চারা লাগাতে মাঠে যেতে পারছে না কৃষক। উপজেলায় ঠাণ্ডাজনিত রোগে মরেছে প্রায় ১০ হাজার ব্রয়লার মুরগী।
ধামইরহাট (নওগাঁ): গতকাল সারাদিন আকাশ মেঘে ঢাকা ছিল, সাথে কনকনে হিমেল বাতাস। পুরনো গরম কাপড়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে।
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ): উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সরকার আলোকিত প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার কম্বল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
মিঠাপুকুর (রংপুর): গত এক সপ্তাহে অর্ধশতাধিক নারী ও শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১৭ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ২০ জন নারী ও শিশুকে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে।
কয়রা (খুলনা): উপকূলীয় জনপদের হতদরিদ্র মানুষগুলো শীতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ী বাঁধের উপর বাস করা অধিকাংশই জেলে ও শ্রমিক।
