ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাটে গণধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীকে ৪৩ দিন পর বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে নিয়ে গেলেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার।
সোমবার সকালে তিনি উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে নির্যাতিত মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি মেয়েটিকে জাফর ইমাম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে নিয়ে গিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে লেখাপড়া করার সুযোগ করে দেন।
এ সময় তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে তার সঙ্গে ভালো ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘মেয়েটির কোনো অপরাধ করে নাই। যে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ ও নির্যাতন করেছে তারা অপরাধী। আমরা সেই নির্যাতনকারীদেরকে ঘৃণা করবো।’
জানা গেছে, উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গত ১৪ ডিসেম্বর পরীক্ষা শেষে বাড়ি যাচ্ছিল। এ সময় উপজেলার ফেনাপুষ্করিনী গ্রামের আবুল বশর, ছাগলনাইয়া উপজেলার পশ্চিম দেবপুর গ্রামের ছোট্টু মিয়াসহ আরো কয়েকজন জোরপূর্বক ওই ছাত্রীকে মাইক্রোবাসে তুলে ছাগলনাইয়া পৌরসভার জমদ্দার বাজারের পাটোয়ারী প্লাজায় নার্গিসের কথিত থেরাপি সেন্টারে নিয়ে যায়। এরপর অপহৃতার মায়ের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এভাবে ২০ দিন ধরে বশর বাহিনী ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের মহিপাল কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে অচেতন অবস্থায় গত ২ জানুয়ারি স্কুলছাত্রীকে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। তাকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করায় মেয়েটির স্বজনরা। ৫ জানুয়ারি মেয়েটির মা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে ফুলগাজী থানায় মামলা করে। পুলিশ এ ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে আটক করে।
ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মককর্তা (ওসি) মো. মঈন উদ্দিন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে, ‘শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘কোন সমস্যা হলে থানায় ফোন করে জানাবে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
