এখন পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি গুগল। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক প্রতিবেদনেও এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যের উল্লেখ থাকে না। এর পাশাপাশি সার্চ পার্টনারশিপের জন্য অ্যাপল কী পরিমাণ অর্থ পেয়েছে, তাও প্রকাশ করেনি কোনো প্রতিষ্ঠানই। ওরাকলের আইনজীবীর দেওয়া তথ্যের ব্যাপারে গুগল জানিয়েছে, ‘ওরাকল গুগলের গোপনীয় তথ্য যথাযথভাবে প্রকাশ করেনি। গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করায় গুগলের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’ গুগল আরও জানিয়েছে, অ্যাপলের সাথে ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন সংক্রান্ত চুক্তিটি ছিল ‘খুবই গোপনীয়’। গুগল মূলত তিন উপায়ে অ্যান্ড্রয়েড থেকে আয় করে থাকে। প্রথমত, অ্যাপ থেকে। কেউ যখন প্লে স্টোর থেকে প্রিমিয়াম অ্যাপ কিনে থাকে, গুগল তখন সেখান থেকে ৩০ শতাংশ চার্জ কেটে নেয়। দ্বিতীয়ত, গুগলের বিভিন্ন অ্যাপ যেমন- জিমেইল, ইউটিউব, গুগল সার্চ, প্লে স্টোর প্রভৃতি অ্যাপের জন্য স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে চার্জ নিয়ে থাকে। তৃতীয়ত, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের বিজ্ঞাপন থেকেও আয় করে গুগল। উল্লেখ্য, জাভার অংশবিশেষ অ্যান্ড্রয়েডে ব্যবহার করায় গুগলের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করে ওরাকল। ওরাকলের দাবি, এর মাধ্যমে গুগল প্যাটেন্ট আইন লঙ্ঘন করেছে।
অ্যান্ড্রয়েড কিনে নেওয়ার পর থেকেই অপারেটিং সিস্টেমটির বিভিন্ন তথ্য নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করে আসছিল গুগল। তবে শেষ রক্ষা আর হলো না। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে ওরাকলের আইনজীবী অ্যানেট হার্স্ট গুগলের এসব গোপন তথ্য প্রকাশ করে দিয়েছেন। সান ফ্রান্সিসকোর ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে গত ১৪ জানুয়ারি অ্যানেট হার্স্ট জানান, ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৩১ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে অ্যান্ড্রয়েড। এ ছাড়া মুনাফা হয়েছে ২২ বিলিয়ন ডলার। অ্যান্ড্রয়েডের এই আয়ের পরিমাণকে ‘বিস্ময়কর’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে ওরাকলের এই আইনজীবী আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদালতে প্রকাশ করেছেন যা পুরো প্রযুক্তি বিশ্বকেই অবাক করে দিয়েছে। আইফোনের সাফারি ব্রাউজারের ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে জায়গা করে নিতে অ্যাপলকে ২০১৪ সালে ১০০ কোটি ডলার দিয়েছিল গুগল। সম্প্রতি সিরি এবং স্পটলাইট সার্চ অ্যাপের ডিফল্ট সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে যুক্ত হয়েছে মাইক্রোসফটের অ্যাপ।
