সুন্দরগঞ্জে ফুল চাষে সফলতা পেলেন লিটন

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৬, ২১:০০
লেখাপড়া শেষ। চাকরির পিছনে ছুটে হতাশ হওয়ার চেয়ে নিজের অভিলব্ধ জ্ঞানকে পুঁজি করে সামান্য পরিসরে কোনো কিছু গড়ার চেষ্টা করে সমাজে অবদান রাখা যায়। নিজ কর্মের মাধ্যমে কোনো কিছু দাঁড় করিয়ে আরো মানুষের কর্মসংস্থানের জায়গা তৈরি করাই সম্মানজনক। বিশেষণ করে বলতে গেলে যা পৃথিবীর প্রতিই অবদান রাখা। অন্ততপক্ষে নিজ প্রচেষ্টায় স্বাবলম্বী হওয়ার একটি আত্মগৌরব রয়েছে। আত্মসন্তুষ্টি রয়েছে। কেননা স্বাবলম্বী হয়ে অন্যের জন্য অনন্ত কোনো এক প্রতিষ্ঠানে একটি কর্মসংস্থান জায়গা তৈরিতে সক্ষম হওয়া গেছে।
 
এমনই এক আত্মপ্রত্যয়ী যুবক গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূব ছাপড়হাটী গ্রামের রবীন্দ্র নাথ সরকারের ছেলে লিটন বাবু। যিনি লেখাপড়া শেষে চাকরির পিছনে ছু্টে হতাশ না হয়ে নিজের অভিলব্ধ জ্ঞান দিয়ে ফুল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। যেখানে প্রতিদিন ৫-৬ জন শ্রমিক কাজ করে জীবিকনির্বাহ করছে।
 
লিটন জানান, পড়াশোনা শেষ করে কি করবেন মনস্থির করতে পারছিলেন না তিনি।  তবে তিনি ছোট বেলা থেকে ফুল ভালোবাসতেন। আর এ জন্য গ্রামবাসী তাকে ফুল প্রেমিক বলে আখ্যায়িত করে আসছিলেন। প্রথমে তিনি নিজ বাড়ির উঠানে টবের মধ্যে ফুল চাষ শুরু করে। ওইদিনগুলোতে সারাদিন ফুল নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে থাকেন। পরে তার বাড়ির পাশে ছোট এক খণ্ড জমিতে ফুল চাষ শুরু করেন। ধীরে ধীরে পরিধি বাড়তে থাকে। পরে বাগানটিকে ‘সীমা নার্সারি’ বলে নামকরণ করেন।
তিনি আরো জানান, ‘বর্তমানে দুই বিঘা জমিতে তিনি ফুল চাষ করে আসছেন। প্রতি বছর ফুল থেকে আয় হচ্ছে লক্ষাধিক টাকা। সরকারি কোনো প্রশিক্ষণ বা আর্থিক সহযোগিতা পেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফুল যোগান দিয়েও বিদেশে রফতানি করতে পারবেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নার্সারিতে  রজনীগন্ধা, গেডিলাস, গাদা, গোলাপ, ডালিয়া, সূর্যমুখী, দোপাটি, নয়নতারা, এ্যাক্রকার, চন্দ্র মল্লিকসহ বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ হচ্ছে। এছাড়া ওই নার্সারিতে ফলদ ও ঔষধীসহ বিভিন্ন উৎপাদিত চারা বিক্রি করে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা আয় করছেন।’
 
সরকারিভাবে প্রশিক্ষণসহ আর্থিক সহযোগিতা পেলে ফুল উৎপাদনে অধিক সফলতা আসবে বলে লিটন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।