গাংনীতে মুক্তিযোদ্ধাকে মারপিট; এলাকায় উত্তেজনা

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৬, ০০:০৯

মেহেরপুরের গাংনীতে মুক্তিযোদ্ধাকে মারপিটের অভিযোগে গাংনী থানায় মামলা দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর। আজ বুধবার (২৭ জানুয়ারী) রাত ৮ টার দিকে ৪ জনকে আসামী করে এ মামলা দিয়েছেন তিনি।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্করকে মারপিটকারী ব্যক্তিকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে যৌথভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গাংনী উপজেলা আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ।
মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, গাংনী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাহিদুজ্জামান খোকন ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি গাংনী বড়বাজার ট্রাফিক আইল্যান্ড থেকে শুরু হয়ে হাসপাতাল বাজার ঘুরে একই স্থানে শেষ হয়।
আজ বুধবার রাত ৯ টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা।
গাংনী ট্রাফিক আইল্যান্ড চত্তরে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক ও যুবলীগ সভাপতি মোশাররফ হোসেন।
বক্তারা ২৪ ঘন্টার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাকে হামলাকারী সাবেক কমিশনার আলেহিম হোসেনসহ তার সহযোগীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন সমাবেশ থেকে।
বিক্ষোভ মিছিল চলাকালিন সময়ে উপজেলা শহরের হাসপাতাল এলাকায় উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিরুল ইসলামের ব্যবসায়ীক অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধরা।
আজ বুধবার সন্ধ্যার দিকে মুক্তিযোদ্ধা চৌগাছা গ্রামের আবু বক্কর (৬৫) ও পৌরসভার সাবেক কমিশনার আলেহিম হোসেনের মধ্যে বাক বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গাংনী পৌরসভার সাবেক কমিশনার আলেহিম হোসেন ও তার অপর সহযোগীরা মারপিট করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক বলেছেন, দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এক শ্রেনীর লোক হাসপাতাল বাজার এলাকায় অবৈধভাবে সরকারী জায়গা দখলে নিয়ে টেন্ডারবাজীসহ নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছে। তারা জাতীর সুর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তাই এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের  অপকর্ম পরিচালনাস্থলে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে।
এদিকে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর ও সাবেক কমিশনার আলেহিম হোসেনের মধ্যেকার বাকবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক ও তার লোকজন আমার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে । আমি এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেব।

গাংনী থানার ওসি আকরাম হোসেন জানান, আলেহিম হোসেনসহ ৪ জনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে আইনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আলোহিম হোসেনসহ অভিযুক্তদের আটক করতে অভিযান শুরু হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে ওসি আকরাম হোসেন দাবী করেছেন।